
প্রয়াগরাজ: খোরপোষ চেয়ে স্ত্রীর করা মামলায় স্বামীর কর্তব্য মনে করাল হাইকোর্ট। স্বামীর বেতন থেকে কেটে নিয়ে স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিল আদালত। সেই নির্দেশ দিতে গিয়ে মনুস্মৃতির একটি উদ্ধৃতিও তুলে ধরেন বিচারপতি। কানপুর নগরের একটি পারিবারিক আদালতের নির্দেশ সংশোধন করে খোরপোষ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে এলাহবাদ হাইকোর্ট।
১৯,০০০ টাকা খোরপোষের নির্দেশ দিয়েছিল ফ্যামিলি কোর্ট। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, স্বামী যে সংস্থায় চাকরি করেন সেই ‘ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক’ স্বামীর বেতন থেকে কেবল আয়কর বাদ দিয়ে বাকি অর্থের ২৫ শতাংশ কেটে স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠাবে। স্ত্রী ও তাঁদের নাবালিকা কন্যার জন্য় দেওয়া হবে ওই টাকা।
বিচারপতি প্রবীন কুমার গিরির পর্যবেক্ষণ, “স্বাবলম্বী নয়, এমন স্ত্রী, নাবালক সন্তান এবং বাবা-মায়ের ভরণপোষণ করা স্বামীর জন্য কেবল আইনি বাধ্যবাধকতাই নয়, এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব।” এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের একটি মামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি মনুস্মৃতির একাদশ অধ্যায়ের ১০ নম্বর শ্লোকেও একই কথা বলা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন বিচারপতি। শ্লোকটি উল্লেখ করে বিচারপতি বলেন, “বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী এবং নাবালক সন্তানকে রক্ষা বা ভরণপোষণ করতে হবে, প্রয়োজনে ১০০টি অন্যায় কাজ করেও করতে হবে, মনু এমনই নির্দেশ দিয়েছেন।”
আবেদনকারীর আইনজীবী দিবস ভার্মা আদালতকে নির্দেশ দিতে অনুরোধ করেন যেন ব্যাঙ্ক সরাসরি ২৫ শতাংশ টাকা কেটে স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে জমা দেয়। হাইকোর্ট পারিবারিক আদালতের নির্দেশ সংশোধন করে সেই নির্দেশ দেয়। সে ক্ষেত্রে প্রতি মাসে মাসে খোরপোষ আদায়ের আর কোনও সমস্যা থাকবে না।