
নেল্লোর: সিঙ্গল মাদারদের আইনি অধিকারে এক ঐতিহাসিক রায় দিল অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট। আদালতের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও নাবালক সন্তানের পাসপোর্টের আবেদন করার বা সেই পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে সন্তানের বাবার সম্মতির প্রয়োজন নেই। জাস্টিস বাট্টু দেবানন্দের সিঙ্গল বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছে, ১৯৬৭ ও ১৯৮০-র পাসপোর্ট আইন অনুযায়ী, সন্তান পালনের ক্ষেত্রে একজন অভিভাবকের ক্ষেত্রে আর একজন অভিভাবকের সম্মতির প্রয়োজন নাও পড়তে পারে। তাই শুধু বাবা-মা আলাদা থাকেন বলে শিশুটিকে পাসপোর্টের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা অন্যায্য।
ঘটনার সূত্রপাত কিভাবে?
নেল্লোর জেলার একজন মহিলার দায়ের করা পিটিশনের ভিত্তিতে এই অভিযোগ করা হয়েছে। আবেদনকারী ২০২২ সাল থেকে তাঁর স্বামী মোল্লা সুহেলের সঙ্গে দাম্পত্য কলহের কারণে আলাদা থাকেন ও একাই নিজের চার বছরের মেয়ের দেখাশোনা করছেন। স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক ও গার্হস্থ্য হিংসার মামলা বিচারাধীন থাকার ফলে তিনি ডিভোর্সের কোনও প্রক্রিয়া শুরু করেননি। তা সত্ত্বেও পাসপোর্ট আবেদন করার সময় তিনি নিজেকে ‘সিঙ্গল পেরেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন ও প্রয়োজনীয় অ্যানেক্সার ‘সি’ ও ‘ডি’ জমা দেওয়া সত্ত্বেও পাসপোর্ট অফিস তাঁর আবেদনকে হোল্ড করে দেয় ও বিবাহবিচ্ছেদের কোনও বৈধ ডকুমেন্ট দেখাতে বলে।
এরপরেই মহিলা উচ্চতর আদালতে আবেদন করেন এবং পাসপোর্ট অফিসের ভূমিকা বিচার করে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট বোম্বে হাইকোর্টের একটি পুরোনো রায়কে স্মরণ করিয়ে দেয়। আদালত উল্লেখ করে, সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদেশ ভ্রমণের অধিকার প্রত্যেকের কাছেই বৈধ। প্রত্যেকেরই নিজের স্বাধীনতা রয়েছে। আদালত এও জানিয়েছে, জীবনে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কোনও বিলাসিতা নয়, বরং জীবনের উন্নতির এক অপরিহার্য অঙ্গ।
আদালত জানিয়েছে, যেখানে আবেদনকারী মহিলা নিজের ব্যাপারে সব সত্যি কথাই প্রকাশ করেছেন ও পাসপোর্ট ইস্যু করার ওপর অন্য কোনও আদালতের নিষেধাজ্ঞা নেই, সেখানে বিবাহবিচ্ছেদের সেপারেশন অর্ডার চাওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। এই বিষয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ আদালত জানিয়েছে, যেন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ওই শিশুর পাসপোর্টের আবেদনে সম্মতি দেওয়া হয়। এর জন্য শিশুর বাবার সম্মতি বা কোনও ডিভোর্সের পেপার লাগবে না। অন্দ্রপ্রদেশ আদালতের এই সিদ্ধান্ত দেশের হাজার হাজার সিঙ্গল মাদারদের লড়াইয়ে এক নতুন দিশা দেখাবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।