
চেন্নাই: মদ্যপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর, এ কথা সকলের জানা। কিন্তু সেই মদ্যপান করার সঙ্গে সঙ্গেই যে মৃত্যু হবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি কেউ। বিষমদে মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েই চলেছে। তামিলনাড়ুতে বিষমদ পান করে এখনও পর্যন্ত মৃত্য়ু হয়েছে ৫৫ জনের। হাসপাতালে ভর্তি শতাধিক। ক্রমাগত মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলায় বিষমদ নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে রাজ্যের।
তামিলনাড়ুর কলাকুরুচি জেলায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে বিষমদ ঘিরে। ক্রমশ বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। চেন্নাই থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জেলায় চলতি সপ্তাহের শুরুতেই বিষমদ পান করে ১৮ জনের মৃত্যুর খবর মেলে। এরপরে প্রতিদিনই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলেছিল। শুক্রবারের শেষ খবর অনুযায়ী, কমপক্ষে ৫৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই করুণাপুরম এলাকার বাসিন্দা। হঠাৎ করেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। সন্তানহারা এক মহিলা বলেন, “আগের রাতে ছেলে মদ খেয়ে এসেছিল। বাড়ি ফেরার পর থেকেই ওঁর পেটে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়। এমনকী চোখও খুলতে পারছিল না। হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রথমে ভর্তি নিতে অস্বীকার করা হয় কারণ ও মদ্যপ ছিল। পরে ভর্তি নেওয়া হয়, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। রাজ্য সরকারের উচিত সমস্ত মদের দোকান বন্ধ করে দেওয়া।”
আরেক মহিলাও দাবি করেন, বিষমদ পান করার পর তাঁর ছেলে যন্ত্রণায় ছটফট করছিল। চোখে কিছু দেখতে পাচ্ছিল না, কানে শুনতে পারছিল না।
পুলিশের তরফে ইতিমধ্যেি ৪ জন বিষমদ কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে আরও ১০ জনকে। বিষমদে ঠিক কী মেশানো হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে পুলিশ সুপার সময় সিং মীনাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তিনজন ইন্সপেক্টর ও সাব ইন্সপেক্টরকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিষমদ কাণ্ডের তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সিআইডিকে।