
হায়দরাবাদ: প্রথমে ছাদ থেকে ফেলে খুনের (Hyderabad Crime) চেষ্টা। সফল না হলে ইঞ্জেকশনে টয়লেট ক্লিনার মিশিয়ে স্বামীকে খুনের অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ঘটনায় স্ত্রী-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল ওই মহিলার। প্রেমিকের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেই স্বামীকে খুন করে বলে অভিযোগ। তেলাঙ্গানার নিজামবাদ জেলার ঘটনা।
মৃতের নাম প্রশান্ত (৩৫)। স্ত্রী সন্ধ্যার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ উঠেছে। জানা গিয়েছে, দেশের বাইরে কর্মরত ছিলেন। ১ জুলাই প্রশান্তর মা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, ৩০ জুন ছেলের মৃত্যুর খবর পান। এমনকি ছেলে যে বাড়িতে ফিরেছিল, সেটাও তাঁর জানা ছিল না। ছেলের মৃত্যু রহস্যজনক বলে দাবি করে পুত্রবধূ সন্ধ্যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে সন্ধ্যার সঙ্গে অনিল নামে এক ব্যক্তির বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। কিন্তু, তাঁদের সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ায় প্রশান্ত। পুলিশ সূত্রে খবর, এরপরই দু’জনে মিলে প্রশান্তকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। পুলিশের দাবি, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারা ভেঙ্কট সাই নামে আরও এক ব্যক্তির সাহায্য নেন। ২৯ জুন সাই প্রথমে প্রশান্তকে অতিরিক্ত মদ খাওয়ান। এরপর বাড়ির ছাদে নিয়ে গিয়ে নিচে ফেলে দেন।
গুরুতর জখম অবস্থায় সন্ধ্যা ও সাই প্রথমে তাঁকে সরকারি হাসপাতালে এবং পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসার পর বাড়িতেও ফিরে আসেন। জানা গিয়েছে, বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল প্রশান্তর। অভিযোগ, এরপর প্রেমিকের প্ররোচনায় স্যালাইনে টয়লেট ক্লিনার মিশিয়ে খুন করা হয়। শুধু তাই নয়, এরপর তাঁকে খাট থেকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন বলে অভিযোগ। এরপরই প্রশান্তর মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, জেরায় তিন অভিযুক্তই অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হলে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।