Alimony Rules: স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে করলেও কি প্রাক্তন স্বামী খোরপোষ দিতে বাধ্য? কী বলছে আইন

Divorce Alimony: ২০২৪ সালের মহম্মদ আব্দুল সামাদ বনাম তেলঙ্গানা সরকারের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, মুসলিম বিবাহবিচ্ছিন্না মহিলারাও বিএনএসএস-এর ১৪৪ ধারা অনুযায়ী খোরপোষ দাবি করতে পারেন। তবে পুনর্বিবাহ করলেই সেই অধিকার শেষ হয়ে যায়।

Alimony Rules: স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে করলেও কি প্রাক্তন স্বামী খোরপোষ দিতে বাধ্য? কী বলছে আইন
প্রতীকী চিত্র।Image Credit source: Pexels

|

Jul 04, 2026 | 2:58 PM

নয়া দিল্লি: বিবাহবিচ্ছেদের (Divorce) পর খোরপোষ (Alimony) দাবি করেন অনেকেই। মূলত স্ত্রী-রাই প্রাক্তন স্বামীর কাছ থেকে খোরপোষ চান। এই খোরপোষ কত হবে, তা নিয়ে যেমন নানান প্রশ্ন থাকে, তেমনই অনেকের এই প্রশ্নও থাকে যে যদি বিবাহবিচ্ছেদের পর স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে (Re-marriage) করেন, তারপরও কি প্রাক্তন স্বামীকে খোরপোষ দিতে হবে?

আইন অনুযায়ী, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্ত্রী পুনরায় বিয়ে করলে, প্রাক্তন স্বামীর খোরপোষ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা শেষ হয়ে যায়। তবে এটি নির্ভর করে কোন আইনের অধীনে খোরপোষের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধর্ম এবং সন্তানের বিষয় জড়িত আছে কি না, তার উপরে।

সাধারণভাবে কী বলছে আইন?

ভারতের আইনে বিবাহবিচ্ছেদের পর কোনও মহিলা পুনর্বিবাহ করলে, সাধারণত তিনি প্রাক্তন স্বামীর কাছ থেকে খোরপোষ পাওয়ার অধিকার হারান। কারণ দ্বিতীয় বিয়ের পর ওই মহিলার ভরণপোষণের দায়িত্ব নতুন স্বামীর ওপর বর্তায়। এই নীতি দেশের একাধিক আইনে স্বীকৃত।

BNSS-এর অধীনে খোরপোষের নিয়ম-

বর্তমানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS), ২০২৩ চালু হয়েছে। বিএনএসএস-এর ১৪৪ ধারা অনুযায়ী স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মা, যারা নিজেরা জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন না, তারা আদালতের মাধ্যমে মাসিক খোরপোষ দাবি করতে পারেন।

এই ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, বিবাহবিচ্ছিন্না স্ত্রী পুনরায় বিয়ে করলে, তিনি প্রাক্তন স্বামীর কাছ থেকে আর খোরপোষ পাওয়ার অধিকারী নন। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, স্ত্রীর পুনর্বিবাহের সঙ্গে সঙ্গেই খোরপোষ বন্ধ হয়ে যায় না।প্রাক্তন স্বামীকে আদালতে আবেদন করে স্ত্রীর পুনর্বিবাহের প্রমাণ দিতে হবে এবং আদালতের কাছ থেকে খোরপোশ বাতিলের নির্দেশ নিতে হবে।

আদালতের অনুমতি ছাড়া একতরফাভাবে খোরপোষ দেওয়া বন্ধ করলে আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। বিএনএসএস-এর নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন (Interim) খোরপোষের আবেদন ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্ট কী বলেছে?

সুপ্রিম কোর্ট একাধিক রায়ে জানিয়েছে, পুনর্বিবাহের পর প্রাক্তন স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব আর আগের স্বামীর থাকে না। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, খোরপোষের উদ্দেশ্য হল কোনও মহিলাকে আর্থিক অনটন থেকে রক্ষা করা। কিন্তু তিনি নতুন করে সংসার শুরু করলে, সেই দায়িত্ব নতুন স্বামীর ওপর বর্তায়।

২০২৪ সালের মহম্মদ আব্দুল সামাদ বনাম তেলঙ্গানা সরকারের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, মুসলিম বিবাহবিচ্ছিন্না মহিলারাও বিএনএসএস-এর ১৪৪ ধারা অনুযায়ী খোরপোষ দাবি করতে পারেন। তবে পুনর্বিবাহ করলেই সেই অধিকার শেষ হয়ে যায়।

আদালত আরও বলেছে, দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে পরবর্তীতে বিবাহবিচ্ছেদ হলেও বা দ্বিতীয় স্বামীর মৃত্যু হলেও, প্রাক্তন স্বামীর কাছ থেকে খোরপোষ দাবি করার অধিকার ফিরে আসে না।

অন্যদিকে, প্রাক্তন স্বামী যদি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন, তাহলেও প্রথম স্ত্রীর খোরপোষ দেওয়ার দায়িত্ব শেষ হয় না। যদিও আদালত চাইলে নতুন পারিবারিক খরচ বিবেচনা করে খোরপোষের পরিমাণ কমাতে পারে।

হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টে কী বলা হয়েছে?

হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট, ১৯৫৫-এর ধারা ২৫ অনুযায়ী আদালত বিবাহবিচ্ছেদের সময় স্থায়ী খোরপোষ (Permanent Alimony) নির্ধারণ করতে পারে।  ২৫(৩)  ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী পুনর্বিবাহ করলে অথবা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হয়ে গেলে, আদালত সেই খোরপোষ বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারে।

হিন্দু অ্যাডপশনস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অ্যাক্ট

হিন্দু অ্যাডপশনস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অ্যাক্ট, ১৯৫৬-এর ধারা ১৮ অনুযায়ী স্ত্রী খোরপোষ পাওয়ার অধিকারী। তবে এই অধিকার শর্তসাপেক্ষ। পুনর্বিবাহ করলে এই আইনের অধীনে খোরপোষের অধিকারও শেষ হয়ে যায়।

স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে কী নিয়ম?

স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট, ১৯৫৪-এর ধারা ৩৭ অনুযায়ীও স্ত্রী পুনর্বিবাহ করলে আদালত খোরপোষের নির্দেশ বাতিল বা সংশোধন করতে পারে।

যদি কোনও মহিলা পুনর্বিবাহের পরও সেই তথ্য গোপন রেখে খোরপোষ নিতে থাকেন, তাহলে প্রাক্তন স্বামী আদালতে গিয়ে—

  • খোরপোষ বাতিলের আবেদন করতে পারেন
  • অতিরিক্ত দেওয়া টাকা ফেরতের দাবি করতে পারেন
  • তথ্য গোপনের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থার আবেদনও করতে পারেন।

সন্তানের খোরপোষের ক্ষেত্রে কী নিয়ম?

  • স্ত্রীর পুনর্বিবাহের কোনও প্রভাব সন্তানের খোরপোষের ওপর পড়ে না।
  • মা দ্বিতীয়বার বিয়ে করলেও, বাবা সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হন না।
  • সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা, দৈনন্দিন খরচ এবং সামগ্রিক কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই আদালত খোরপোষের পরিমাণ নির্ধারণ করে।

 

Follow Us