
নয়া দিল্লি: নিজের রক্তও শত্রু হয়ে যায় যখন সম্পত্তির প্রশ্ন ওঠে। বহু পরিবারেই অশান্তি লেগে থাকে সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে। সম্পত্তির ভাগ বা তার উপরে অধিকার কার, তা নিয়ে সকলের মনেই নানা প্রশ্ন থাকে। এর মধ্যে অন্যতম প্রশ্ন হল, যদি কেউ উইল না করে মারা যান, তবে তাঁর সম্পত্তির মালিক কে হন?
যদি কোনও ব্যক্তি, যার সন্তান রয়েছে, তিনি উইল না করে মারা যান, তাহলে আইনি পরিভাষায় সেটিকে ইচ্ছাপত্রহীন মৃত্যু বা ইনটেস্টেট (Intestate) বলা হয়। এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির সম্পত্তি কীভাবে ভাগ হবে, তা ধর্ম ভিত্তিক উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
ভারতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন, ১৯৫৬ (২০০৫ সালের সংশোধনী সহ) প্রযোজ্য হয়, যা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং শিখ ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে কার্যকরী।
এই আইন অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি উইল না করে মারা গেলে, বাবার সম্পত্তিতে ছেলে এবং মেয়ের সম্পূর্ণ সমান অধিকার থাকে। ২০০৫ সালের সংশোধনী অনুযায়ী মেয়ে বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত, বাবার পৈতৃক বা স্ব-অর্জিত সম্পত্তিতে ছেলের সমান ভাগীদার বা অধিকার থাকে মেয়ের।
বাবার মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তি প্রথম উত্তরাধিকারীদের (Class I Heirs) মধ্যে সমান ভাগে ভাগ হয়। বাবার সম্পত্তিতে প্রথম শ্রেণীর উত্তরাধিকারীরা হলেন:
উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, যদি কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর সময় তাঁর স্ত্রী, এক ছেলে এবং এক মেয়ে জীবিত থাকে, তবে এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির সম্পূর্ণ সম্পত্তি তিনটি সমান ভাগে ভাগ হবে। স্ত্রী, ছেলে এবং মেয়ে প্রত্যেকে সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ পাবেন। যদি মৃতের মা-ও জীবিত থাকেন, তবে সম্পত্তি চারটি সমান ভাগে ভাগ হবে। প্রত্যেকে ২৫ শতাংশ ভাগ পাবেন।
মুসলিম আইন (শরিয়ত) অনুযায়ী উইল না থাকলে সম্পত্তি বন্টনের নিয়ম কিছুটা আলাদা হয়। প্রথমে মৃত ব্যক্তির শেষকৃত্যের খরচ এবং কোনও ঋণ থাকলে, তা সম্পত্তির অংশ থেকে মেটানো হয়। এরপর স্ত্রীর নির্দিষ্ট আইনি ভাগ (সন্তান থাকলে সাধারণত সম্পত্তির ১/৮ অংশ) তাঁকে দেওয়া হয়। বাকি সম্পত্তি ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে বন্টন করা হয়। এই ক্ষেত্রে নিয়ম হল— একটি ছেলের ভাগ, একটি মেয়ের ভাগের দ্বিগুণ হবে অর্থাৎ২:১ অনুপাতে সম্পত্তি ভাগ হয়। ভাই বোনের তুলনায় দ্বিগুণ সম্পত্তি পান।
এই আইনটি মূলত খ্রিস্টান, পার্সি বা স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে বিবাহিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির স্ত্রী জীবিত থাকলে, তিনি সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ পান। বাকি দুই তৃতীয়াংশ ছেলে এবং মেয়েদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়।
উইল না থাকলে আইনিভাবে সম্পত্তি ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীর নামে হস্তান্তর করার জন্য এই আইনি পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করতে হয়-
লিগ্যাল হেয়ার সার্টিফিকেট (Legal Heir Certificate): মিউনিসিপালিটি, পঞ্চায়েত বা মহকুমা শাসকের (SDO) দফতর থেকে আইনি উত্তরাধিকারী শংসাপত্র সংগ্রহ করতে হয়।
সাকসেশন সার্টিফিকেট (Succession Certificate): বাবার নামে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট বা শেয়ারের টাকা দাবি করার জন্য আদালতের মাধ্যমে এই সার্টিফিকেট বের করতে হতে পারে।
মিউটেশন: বাড়ির দলিল বা জমির পর্চায় বাবার নামের পরিবর্তে লিগ্যাল হেয়ার সার্টিফিকেট দেখিয়ে স্থানীয় ভূমি রাজস্ব দফতর (BLRO) বা পৌরসভায় নিজেদের নাম রেকর্ড (Mutation) করাতে হয়।
বিঃদ্র: এটি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। সম্পত্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বা মামলার জন্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া বাঞ্চনীয়।