
মুম্বই: আত্মঘাতী আরও এক আইআইটি পড়ুয়া। শুক্রবার বিকেলে ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি বম্বের দ্বিতীয় বর্ষের এক পড়ুয়া আত্মহত্যা করে। জানা গিয়েছে, পরীক্ষায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়েছিল ওই পড়ুয়া। চ্যাটজিপিটির ব্যবহার করে পরীক্ষা দিচ্ছিল। পরীক্ষকের হাতে ধরা পড়ে ওই ছাত্র। এরপর হস্টেলে ফিরেই এই চরম পদক্ষেপ।
পড়ুয়ার আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। বহু ছাত্র-ছাত্রী বিক্ষোভও দেখায়। জানা গিয়েছে, বিগত ছয় মাসে এই নিয়ে তিনজন পড়ুয়া আত্মহত্যা করল।
আইআইটি বম্বের তরফে জানানো হয়েছে, আত্মঘাতী পড়ুয়ার নাম সাহিল ওয়াকোড়ে। এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়ুয়া ছিল সে। পরীক্ষা চলাকালীন ওই পড়ুয়া প্রশ্নপত্র চ্যাটজিপিটি-তে আপলোড করে এবং এর উত্তর জানতে চায়। সেই সময়ই পরীক্ষক ওই পড়ুয়াকে হাতেনাতে ধরে ফেলে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধিকারিকদের দাবি, ওই পড়ুয়ার বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা হয়নি। বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে ওই পড়ুয়ার কথা হয়েছে। তিনিও পড়ুয়াকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে এই ঘটনায় তাঁর পড়াশোনা বা অ্যাকাডেমিক কেরিয়ারে কোনও প্রভাব পড়বে না।
কথাবার্তা বলার পর ওই পড়ুয়া হস্টেলে চলে যায়। সন্ধ্যাবেলায় তাঁর রুম থেকে মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে, তারা ময়নাতদন্তের জন্য দেহ নিয়ে যায়। আইআইটি বম্বে এই ঘটনার তদন্ত করে দেখবে বলেই বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
#WATCH | Mumbai, Maharashtra: IIT Powai (IIT Bombay) students hold a late-night protest following the death of a second-year student. pic.twitter.com/6G6L5DzZCp
— ANI (@ANI) September 18, 2026
এদিকে, আত্মহত্যার খবর সামনে আসার পরই ওই ছাত্রের সহপাঠী ও অন্যান্য পড়ুয়ারা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তাদের দাবি, সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। ওই পড়ুয়াকে এক বছরের জন্য সাসপেন্ড করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সাসপেন্ড করা হলে, তাঁকে হস্টেলও ছেড়ে দিতে হত এবং ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভয় দেখানোর কারণেই চরম পদক্ষেপ করেছে ওই পড়ুয়া। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আইআইটি বম্বে ক্যাম্পাসে এই নিয়ে তৃতীয় পড়ুয়া আত্মহত্যা করল সাত মাসে। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বিতীয় বর্ষের এক পড়ুয়া হস্টেলে আত্মহত্যা করে। তারপর গত জুলাই মাসে নতুন সেমিস্টার শুরুর পরই দ্বিতীয় বর্ষের এক বি.টেক পড়ুয়া আত্মহত্যা করে।