
নয়া দিল্লি: ২০২৩ সাল। লোকসভা ভোটের ঠিক আগে বিজেপিকে রুখতে গড়ে উঠল ইন্ডিয়া জোট। বিজেপি বিরোধী শক্তি। এক ছাতার তলায় এল ২৬টি রাজনৈতিক দল। লোকসভা ভোটে বিজেপির বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করল কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল থেকে ডিএমকে, আপ, সমাজবাদী পার্টি-সহ একাধিক জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল। ভোটের ফলেও তার প্রতিফলন দেখা গেল। বিজেপির ঘাড়ে কার্যত নিঃশ্বাস ফেলেছে ইন্ডিয়া জোট। কাট টু ২০২৬। আজ সেই ইন্ডিয়া জোটেই চওড়া ফাটল। প্রকাশ্যে এসেছে অন্তর্দ্বন্দ্ব। বিজেপির বিরোধিতার পরিবর্তে একে অপরের বিরোধিতায় ব্যস্ত ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলি। অস্তিত্ব রক্ষাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আবহেই আজ দিল্লিতে বৈঠকে বসতে চলেছে ইন্ডিয়া জোট। বিজেপিকে মোকাবিলা করা থেকে শুরু করে সংসদের বাদল অধিবেশনের কৌশল কী হবে, সবকিছু নিয়েই এদিন আলোচনা হবে। কিন্তু, বৈঠকের আগেই দুই শরিক দল পিছু হটেছে। যা আরও অস্বস্তি বাড়িয়েছে বিজেপি বিরোধী শিবিরে। জোটের ভবিষ্যত কী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আজ দিল্লির কন্টিনেন্টাল ক্লাবে INDIA জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে রাহুল গান্ধী বা মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবনে বৈঠক হলেও এবার নিরপেক্ষ স্থান বেছে নেওয়া হয়েছে। পাঁচ রাজ্যে ভোটের পর প্রথমবার বৈঠকে বসতে চলেছে ইন্ডিয়া জোট। এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবে তৃণমূলও। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে, বৈঠকটি যে সহজ হবে না, তা স্পষ্ট। কংগ্রেসের সঙ্গে ডিএমকের সম্পর্কে ছেদ পড়ায় জোটের শরিকদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এম কে স্টালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে,তাঁরা বৈঠকে অংশ নেবে না। জোটের থেকেও দূরত্ব বাড়িয়েছে তাঁরা।
এদিকে, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (AAP) ইতিমধ্যেই জোট থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে। কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও সিপিএম বৈঠকে অংশ নেবে। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি সম্প্রতি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে চিঠি লিখে রাহুল গান্ধীর একটি মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান। ওই চিঠিতে কেরলমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সঙ্গে বিজেপির আঁতাতের অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ও জোটের নেতৃত্বের প্রশ্নে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। অনেক দলই আশা করেছিল, কংগ্রেসের বাইরে কোনও আঞ্চলিক নেতা INDIA জোটের মুখ হতে পারেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কংগ্রেসের সমর্থনের প্রয়োজন হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
আপ, ডিএমকে ছাড়াও আরও বেশ কিছু রাজনৈতিক শরিক দল ইন্ডিয়া জোটের থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছে। সেক্ষেত্রে, আজকের বৈঠকে শেষপর্যন্ত কত দল উপস্থিত থাকবে, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এদিকে, কংগ্রেসের দাবি, মোট ২৩টি রাজনৈতিক দল আজকের বৈঠকে অংশ নেবে। ইন্ডিয়া জোট ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। আজকের বৈঠকে শেষপর্যন্ত কী হয়, সেদিকে নজর থাকবে সব মহলের।