
নয়াদিল্লি: অধিকৃত কাশ্মীরে চলা ‘মৃত্যুমিছিলের’ দায় পাকিস্তানের সরকারের দিকেই ঠেলে দিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক। শুক্রবার বিকালের সাংবাদিক বৈঠক থেকেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল নয়াদিল্লি। অধিকৃত কাশ্মীরে প্রতিবাদীদের গুলি ও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার ঘটনাকে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ বলে কটাক্ষ করল ভারত।
এদিন ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘অধিকৃত কাশ্মীরে চলা প্রতিবাদ, মিছিল সম্পর্কে আমরা অবগত। পাশাপাশি, সেখানে পাক বাহিনী কীভাবে সাধারণ মানুষের উপর নারকীয় অত্য়াচার চালিয়েছে, সেটাও আমরা জানতে পেরেছি। এই সবটাই আসলে পাকিস্তানের দমনপীড়ন মূলক ভাবনাচিন্তার প্রতিফলন। আর এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ও তাদেরই নিতে হবে।’
অধিকৃত কাশ্মীরে চলা সংঘর্ষে যে দিনশেষে পাক সরকার বিশেষ কোনও মাইলেজ তুলতে পেরেছে এমনটা নয়। আন্দোলনকারীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু তারপরেও তাদের নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। অবশেষে শুক্রবার বন্দুক নামিয়ে আলোচনার পথ বেছেছে পাক প্রশাসন। ইতিমধ্যেই প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেওয়া জম্মু-কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসেছে ৮ সদস্যের পাক প্রশাসনিক প্রতিনিধি কমিটি। আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সূত্র খুঁজছে তাঁরা।
Weekly Media Briefing by the Official Spokesperson (October 03, 2025)
https://t.co/IOHyZHQLU3— Randhir Jaiswal (@MEAIndia) October 3, 2025
উল্লেখ্য, সোমবার থেকেই দফায় দফায় পারদ চড়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। প্রতিবাদ, মিছিল ও সবশেষে পুলিশে-মানুষে সংঘর্ষ। যার জেরে এখনও পর্যন্ত প্রাণ গিয়েছে ১৫ জনের অধিক আন্দোলনকারী ও নিরাপত্তারক্ষীর। আহত হয়েছেন ২০০ জনের অধিক। মোট ৩৮ দফা দাবি ঘিরে পথে নেমেছে জম্মু-কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি। অধিকৃত কাশ্মীরের বিধানসভা থেকে ১২টি আসনে সংরক্ষণ বাতিল থেকে বিদ্যুৎ, খাদ্যতে ভর্তুকি-সহ একাধিক দাবিতেই সরব হয়েছে তারা। সরব হয়েছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে বিনামূল্যে করার দাবিতেও।