
দুনিয়ার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সেনাবাহিনী বললে কাদের কথা মনে পড়ে, জানেন? ভারতের মার্কোস, ইউএস মেরিন। ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সের ইয়াহোলাম, রুশ সেনার স্পেটনাজ। এরকম অনেক নামই করা যায়। কিন্তু, এদেরও একটা সীমাবদ্ধতা আছে। জওয়ানরা সবাই মানুষ। সবারই ভাল দিন, খারাপ দিন থাকে। ফিটনেস, মেন্টাল কন্ডিশনও সবদিন সবার সমান থাকে না। আর এই কারণেই, ফিল্ডে, কারও পক্ষেই সমান পারফরম্যান্স সবদিন করা সম্ভব নয়। ভাবুন তো যদি এমন কোনও স্পেশাল ফোর্স থাকত, যারা যে কোনও দিন, যে কোনও পরিস্থিতিতে সমান দক্ষতায় একইভাবে পারফর্ম করবে। যাদের গুলি চালিয়ে কাবু করা যাবে না। পরিবেশ, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, যে বাহিনী কখনই ডিউটি থেকে নড়বে না। ইন্ডিয়ান আর্মি এমনই একটা স্পেশাল ইউনিট তৈরি করতে চায়।
ভাবছেন, একজনের পক্ষে এতকিছু সম্ভব নাকি? মানুষ তো আর রোবট নয়। যদি বলেন, ভুল বলবেন না। সত্যিই একসঙ্গে এতকিছু করা রোবট ছাড়া সম্ভব নয়। আর তাই এবার ভারতীয় সেনায় যোগ দিতে চলেছে স্পেশাল রোবোটিক ফোর্স। অবিকল সেনা জওয়ানের ধাঁচে রোবটদের নিয়ে তৈরি SRF. এই বাহিনী তৈরির প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। কেমন হবে এই রোবো-সেনা? বুলেটপ্রুফ বডি, লম্বায় সাড়ে ৫ থেকে ৬ ফুট, দু-হাতে অস্ত্র চালানোর ক্ষমতা। এরা সাধারণ রোবটের তুলনায় দ্রুত চলতে পারবে ও যে কোনও দিকে ঘুরতে পারবে। শক্রর সঙ্গে মুখোমুখি লড়াই এমনকি টানা নজরদারিও চালাতে পারবে। এই ধরনের এফিসিয়েন্ট রোবট তৈরির কাজটা খুব একটা সহজ নয়।
প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানীরা বলছেন, সবকিছু ঠিকঠাক চললে ২০৪০ সালে রোবোটিক ফোর্স যুদ্ধ করার মতো জায়গায় চলে আসবে। ভারতীয় সেনায় এই মুহূর্তে মিউলের মতো রোবোটিক ডিভাইস ব্যবহার হচ্ছে। সেনার বম্ব স্কোয়াডেও রোবোটিক প্রযুক্তির প্রয়োগ হচ্ছে। তবে, রোবোটিক আর্মি তৈরির চ্যালেঞ্জ একেবারে অন্যরকম। অনেক বেশি জটিল। ডিআরডিও-র এক বিজ্ঞানীর বক্তব্য, যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল কো-অর্ডিনেশন। সেনা জওয়ানদের নিজেদের মধ্যে, কম্যান্ডিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় না থাকলে যুদ্ধ ওখানেই শেষ। রোবোটিক ফোর্সের মধ্যে এই সমন্বয় বজায় রাখার প্রযুক্তি খুঁজে বের করতে হবে বিজ্ঞানীদের। নির্দেশ এলে রোবট সেনারা যাতে একইভাবে সব বুঝতে পারে ও সেই অনুযায়ী কাজ করতে পারে, সেজন্য একটা ইন্টিগ্রেটেড লাইফ কমিউনিকেশন জরুরি।
এইখানে, কোনও গড়বড় হলে কিন্তু কেলেঙ্কারি। গতবছর এমনই একটা ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটারের জন্য অভিন্ন ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল তৈরি করা নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছিল আমেরিকার একটা বিশ্ববিদ্যালয়। হঠাত্ করে সেই ল্যাবে থাকা কম্পিউটারগুলো অদ্ভুত আচরণ শুরু করে দেয়। কিছুতেই তাদের বাগে আনা যাচ্ছিল না। তাই রোবট আর্মির ক্ষেত্রে বহু বিষয়ে সতর্ক থেকে ডিজাইন তৈরি করতে হবে বিজ্ঞানীদের। মিশন সফল হলে সেনার হাত কতটা শক্ত হবে, বুঝতেই পারা যাচ্ছে। চিন, আমেরিকার মতো দেশ রোবোটিক ফোর্স গঠনের কাজ শুরু করে দিয়েছে। কিছুদিন পর রোবট যুদ্ধের ময়দানে ভারতও থাকবে বলে আশাবাদী বিজ্ঞানী মহল।