
কোচি: নৌসেনার রণতরী থেকে নিখোঁজ ভারতীয় নৌসেনার একজন নাবিক। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে নৌসেনা সূত্রে। তাঁকে খুঁজে বের করার জন্য, ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছে নৌসেনা। মুম্বইয়ের সদর দফতর থেকে পশ্চিম নৌ কমান্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ নাবিকের নাম সাহিল ভার্মা। তাঁর নিখোঁজ হওয়াকে ‘দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা’ বলেছে তারা। তারা আরও জানিয়েছে, এই ঘটনার তদন্তের জন্য এক উচ্চ-পর্যায়ের বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে তা এখনও জানা যায়নি। কীভাবে মাঝ সমুদ্রে আচমকা উধাও হয়ে গেলেন ওই নাবিক, তার কোনও জবাব এখনও নেই। যে জাহাজে তিনি ছিলেন, সেটিতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো ছিল। সূত্রের খবর, সেই ক্যামেরায় কাউকে সমুদ্রে পড়ে যেতে দেখা যায়নি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পশ্চিম নৌ কমান্ড লিখেছে, “এক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায়, ভারতীয় নৌবাহিনীর এক জাহাজে মোতায়েন, ‘সীম্যান ২’, সাহিল ভার্মা ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ। অবিলম্বে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জাহাজে এবং বিমানে এক বিশাল অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযান এখনও চলছে। ‘নাভাল বোর্ড অব ইনকোয়ারি’কে এই ঘটনার বিশদ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” সূত্রের খবর, সাহিল নিখোঁজ হওয়ার দুদিন আগেই, অর্থাৎ, ২৫ ফেব্রুয়ারি কেরলের কোটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল জাহাজটি। ২৭ ফেব্রুয়ারিই তাঁকে শেষবার জাহাজে দেখা গিয়েছিল।
আরও জানা গিয়েছে, নিখোঁজ সাহিল ভার্মা জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দা। জম্মুর ঘৌ মানহাসান এলাকায় তাঁদের বাড়ি। ১৯ বছরের সাহিল, ২০২২-এই ভারতীয় নৌসেনায় মোতায়েন পেয়েছিলেন তিনি। ২৯ তারিখে সাহিলের জাহাজের ক্যাপ্টেন তাঁর বাড়িতে ফোন করে সাহিলের নিখোঁজ হওয়ার খবর জানান। তাঁর বাবা-মা এই ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তার বাবা সুভাষচন্দ্র ভার্মা এবং মা রমা কুমারী বুঝেই পাচ্ছেন না, মাঝ সমুদ্রে একটি জাহাজ থেকে কেউ কীভাবে উধাও হয়ে যেতে পারে। নিখোঁজ ছেলেকে ঘরে ফেরাতে, তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। নৌসেনার পক্ষ থেকে তাঁদের সব তথ্য জানানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। গত রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ছেলের সঙ্গে তাঁদের শেষ কথা হয়েছিল। জাহাজের ৪০০ জন লোকের মধ্যে শুধুমাত্র তাঁদের ছেলে কীভাবে নিখোঁজ হল, এই প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।”
সুভাষচন্দ্র ভার্মা বলেছেন, “প্রার্থনা করছি আমার ছেলে যেন নিরাপদে ফিরে আসে। আমরা জানতে পেরেছি, জাহাজটি রওনা হওয়ার আগে ও আবার একদিনের জন্য বেসে ফিরে এসেছিল। ও জাহাজ থেকে নিখোঁজ হয়ে গেল, এটা কীভাবে সম্ভব? ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারকে জানানো উচিত ছিল। একটি তদন্ত বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু দুটি কাজই ঘটনার দুই দিন পর করা হয়েছে।”