Indian Railways: ভারতীয় রেলের মাইলফলক, টেক্কা চিন, জাপানকেও! বড় সাফল্য বাংলাতেও

Indian Railways Electrifies News: রেল মন্ত্রক জানিয়েছে, বিদ্যুতায়িত রেলপথে সৌর ও বায়ুশক্তির মতো নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার আরও সহজ হয়েছে। ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত ভারতীয় রেলে ১,১৬১ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ১০৩ মেগাওয়াট বায়ুশক্তি প্রকল্প চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে ট্র্যাকশন বিদ্যুতের চাহিদার আরও বড় অংশ সৌর, বায়ু ও হাইব্রিড নবীকরণযোগ্য শক্তি থেকে পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

Indian Railways: ভারতীয় রেলের মাইলফলক, টেক্কা চিন, জাপানকেও! বড় সাফল্য বাংলাতেও
ভারতীয় রেলImage Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: শুভশ্রী রায়চৌধুরী

Aug 02, 2026 | 1:38 PM

কলকাতা: বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় রেলের বড় মাইলফলক। রেলে দ্রুত বিদ্যুতায়নের কাজ চলছে। রেলমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় রেলের (Indian Railways) ব্রডগেজ (Broad Gauge) নেটওয়ার্কের প্রায় ৯৯.৬ শতাংশ বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। অবশিষ্ট অংশের বিদ্যুতায়নের কাজও দ্রুতগতিতে চলছে। পাশাপাশি নতুন রেললাইন ও মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পগুলিকে শুরু থেকেই বিদ্যুতায়ন করেই নির্মাণ করা হচ্ছে। রেল মন্ত্রকের (Rail Ministry) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম রেল বিদ্যুতায়ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে ভারতীয় রেল।

১২ বছরে দ্রুত বিদ্যুতায়ন

লোকসভায় এই বিষয়ে যাবতীয় তথ্য পেশ করেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Baishnaw)। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৬০ বছরে ভারতীয় রেল ২১ হাজার ৮০১ রুট কিলোমিটার বিদ্যুতায়ন করেছিল। অথচ ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে মাত্র ১২ বছরে আরও ৪৮ হাজার ৭২ রুট কিলোমিটার বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যা ভারতীয় রেলের ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক বলা হচ্ছে।

সুইজারল্যান্ডের পরেই ভারত

২০২৫ সালের জুন মাসে আন্তর্জাতিক রেল সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব রেলওয়েজ (UIC)-এর প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, রেল বিদ্যুতায়নের নিরিখে বিশ্বের বৃহৎ রেল নেটওয়ার্কগুলির মধ্যে সুইজারল্যান্ডের পরেই ভারতের স্থান। সুইজারল্যান্ডে রেলপথের ১০০ শতাংশ বিদ্যুতায়িত হয়েছে। আর ভারতে সেই হার ৯৯.৬ শতাংশ। তুলনায় চিনে ৮২ শতাংশ, স্পেনে ৬৭ শতাংশ, জাপানে ৬৪ শতাংশ, ফ্রান্সে ৬০ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে মাত্র ৩৯ শতাংশ রেলপথ বিদ্যুতায়িত।

সাশ্রয় হচ্ছে ডিজ়েল

রেল মন্ত্রকের মতে, সম্পূর্ণ বিদ্যুতায়নের ফলে ডিজ়েল নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে যেখানে ট্র্যাকশন কাজে ২৯৩ কোটি লিটার ডিজেল ব্যবহার হত, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা নেমে এসেছে ১০৮ কোটি লিটারে। অর্থাৎ বছরে প্রায় ১৮৫ কোটি লিটার ডিজেল সাশ্রয় হয়েছে। এর ফলে জ্বালানি আমদানির ব্যয় কমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে।

পরিবেশের ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নীতি আয়োগের ‘Fast Tracking Freight in India’-এর  প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এক টন পণ্য এক কিলোমিটার পরিবহনে সড়কপথে যেখানে ১০১ গ্রাম কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, সেখানে রেলপথে নির্গমন মাত্র ১১.৫ গ্রাম, অর্থাৎ প্রায় ৮৯ শতাংশ কম।

আর কী জানিয়েছে রেল মন্ত্রক?

রেল মন্ত্রক জানিয়েছে, বিদ্যুতায়িত রেলপথে সৌর ও বায়ুশক্তির মতো নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার আরও সহজ হয়েছে। ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত ভারতীয় রেলে ১,১৬১ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ১০৩ মেগাওয়াট বায়ুশক্তি প্রকল্প চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে ট্র্যাকশন বিদ্যুতের চাহিদার আরও বড় অংশ সৌর, বায়ু ও হাইব্রিড নবীকরণযোগ্য শক্তি থেকে পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ-সহ কলকাতায় কতদূর এগোল কাজ?

রেলওয়ে জ়োনগুলির মধ্যে সেন্ট্রাল, ইস্টার্ন, সাউথ ইস্টার্ন, নর্দার্ন, ওয়েস্টার্ন, ইস্ট কোস্ট, ইস্ট সেন্ট্রাল, কলকাতা মেট্রো-সহ মোট ১৫টি জ়োনে ১০০ শতাংশ বিদ্যুতায়ন সম্পূর্ণ হয়েছে। এছাড়া নর্থ ওয়েস্টার্ন রেলওয়েতে ৯৯.৮ শতাংশ, নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার ও সাউদার্ন রেলওয়েতে ৯৮.৭ শতাংশ এবং সাউথ ওয়েস্টার্ন রেলওয়েতে ৯৬.১ শতাংশ বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ হয়েছে।

রাজ্যভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাত, ওড়িশা-সহ ২৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ১০০ শতাংশ ব্রডগেজ রেলপথ বিদ্যুতায়িত হয়েছে। অন্যদিকে রাজস্থানে ৯৯.৮ শতাংশ, তামিলনাড়ুতে ৯৮.৩ শতাংশ, অসমে ৯৭.৯ শতাংশ, কর্নাটকে ৯৬.৮ শতাংশ এবং গোয়ায় ৯১.৪ শতাংশ বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

রেল মন্ত্রকের দাবি, প্রায় সম্পূর্ণ বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে ভারতীয় রেল শুধু বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বিদ্যুতায়িত রেল নেটওয়ার্কে পরিণত হয়নি, বরং পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও টেকসই গণপরিবহন ব্যবস্থার দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us