
তেহরান: হরমুজের (Strait of Hormuz) পথে আক্রান্ত ভারতীয় কার্গো জাহাজ (Indian Cargo Ship Attacked)। বুধবার সকালে ভারতীয় পতাকা লাগানো জাহাজে হামলা হয়। ডুবে যায় জাহাজটি। কে হামলা চালিয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে সন্দেহের তির ইরানের ((Iran) দিকেই, কারণ হরমুজ প্রণালীতে তাদের অনুমতি ছাড়া যাতায়াত করা অন্য জাহাজে এর আগে হামলা চালিয়েছে তারা। সম্ভবত ড্রোন বা মিসাইল দিয়ে হামলা করা হয়েছিল ওই জাহাজে, এমনটাই জানা যাচ্ছে।
ভারতীয় জাহাজে হামলার পরই বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এই হামলার কড়া নিন্দা করা হয়েছে। এই ধরনের হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেই জানানো হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের উপরে হামলা চলছে।
এমভি হাজি আলি নামক ভারতীয় জাহাজকে নিশানা করা হয়। ওমানের জলপথে থাকাকালীনই এই হামলা হয়। জানা গিয়েছে, ৫৭ মিটার লম্বা ও ১৪ মিটার চওড়া ভেসেলে করে গরু সোমালি বন্দর থেকে শারজাহের এমিরেতি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ওমানের উত্তর উপকূলে লিমাহ-র কাছে জাহাজের উপরে হামলা করা হয়।
হামলার লোকেশন দেখে আন্দাজ করা গিয়েছে যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নতুন যে শিপিং করিডর তৈরি হয়েছে, সেই জলপথ দিয়েই আসছিল ওই জাহাজটি। মার্কিন নৌসেনাও এই রুট ব্যবহার করছে সুরক্ষিতভাবে যাতায়াতের জন্য।
ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ মে থেকে ৬ মে-র মধ্যে চারটি ভেসেলে হামলা হয়েছিল। আরও একটি জাহাজ হামলা থেকে কোনওক্রমে বাঁচে। ক্রমাগত এই হামলায় মনে করা হচ্ছে যে ইরান আরও শক্ত হাতে হরমুজ প্রণালীকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। ইতিমধ্য়েই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে ইরান। ওমানের উপকূল ধরে যে বিকল্প রুটে ভারতীয় সহ বিভিন্ন দেশের জাহাজ যাতায়াত করছে, তাও নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতেই হামলা করছে ইরান।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গিয়েছে, এখনও হরমুজ প্রণালী এবং ওমান উপকূলে শতাধিক জাহাজ দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেখানেই আবার ছোট ছোট বোট, যা ইরানের রেভেলিউশনারি গার্ড কর্পসের, তারা নজরদারি করছে।