
নয়া দিল্লি: বন্দে মাতরম নিয়ে ফের নয়া বিতর্ক। কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা দলীয় সভা-অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরমের প্রথম দুটি পঙক্তি গাইবে। এরপরই শুরু হয় বিতর্ক। এবার কংগ্রেসকে সরাসরি আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বললেন, “চরম তোষণনীতির পুনরুজ্জীবন করছে কংগ্রেস। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অপমান করছে, যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন, তাদের অপমান করা হচ্ছে”।
বুধবার কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় বন্দে মাতরম নিয়ে যে দলের ১৯৩৭ সালের প্রস্তবনা বা রেজিলিউশন অনুযায়ী প্রথম দুটি পঙক্তি গাওয়া হবে দলের সমস্ত অনুষ্ঠানে।
সম্প্রতিই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন প্রোটোকলে জাতীয় গানের ছয়টি পঙক্তিই গাইতে হবে। এর সঙ্গে জনগণমন-ও গাইতে হবে।
কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন যে এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রতীকী নয়, এটি ঐতিহাসিক ভুলের পুনরাবৃত্তি, যা দেশ ভাগে অবদান রেখেছিল।
তিনি বলেন, “গতকাল কংগ্রেস পার্টির ওয়ার্কিং কমিটি আশ্চর্যজনক ও দেশ-বিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯৩৭ সালের পার্টির সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে বন্দে মাতরমের দুইটি পঙক্তি গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
অমিত শাহ বলেন, “আমি সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে ১৯৩৭ সালে মুসলিম তোষণের জন্য কংগ্রেস পার্টি বন্দে মাতরম গানকে দুটো ভাগে ভাগ করে দিয়েছিল। সেখান থেকেই দুই দেশের তত্ত্ব শক্তি পায় এবং শেষ পর্যন্ত দেশ ভাগ হয়ে পাকিস্তানের জন্ম হয়।”
শাহ জানান যে নরেন্দ্র মোদীর সরকার এই ঐতিহাসিক ভুল শোধরানোর চেষ্টা করেছেন। সরকার জাতীয় ঐক্য আরও বাড়ানো এবং শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছে বন্দে মাতরম গানটি পুরো গাওয়া বাধ্যতামূলক করে। কংগ্রেস সেই সিদ্ধান্তকে মানছে না। তিনি বলেন, “ভোট ব্যাঙ্কের জন্য তারা শুধু বঙ্কিমবাবুর চিরস্মরণীয় কাজকেই অপমান করেনি, একইসঙ্গে যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছেন, বহু বছর জেলের কালকুঠুরিতে কাটিয়েছেন, তাদেরও অপমান করছে।”