
শ্রীনগর: মঙ্গলবারই লোকসভা নির্বাচন ২০২৪-এর ফল প্রকাশ। ঠিক তার আগের দিন, সোমবার (৩ জুন), জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় জঙ্গি দমনে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এই পুলওয়ামাতেই সিআরপিএফ বাহিনীর কনভয়ে হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। নির্বাচনে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছিল জাতীয় সুরক্ষা। এবার, ভোটের আগে এই ধরনের কোনও হামলা না হলেও, ফল প্রকাশের ঠিক আগের দিনই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হল অন্তত দুই জঙ্গি। নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিহত জঙ্গিদের পরিচয় প্রকাশ না করা হলেও, সূত্রের খবর, দুজনেই লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গি গোষ্ঠীর দুই বড় মাপের কমান্ডার।
পুলওয়ামা সংঘর্ষে নিহত দুই জঙ্গি, রিয়াজ আহমেদ দার এবং রইস আহমেদ
সারা দেশের সঙ্গে ভোট হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরেও। আগের সব রেকর্ড ভেঙে, জম্মু-কাশ্মীরের বিপুল মানুষ ভোট দিয়েছেন। কিন্তু, ফল প্রকাশের ঠিক আগের দিনই দক্ষিণ কাশ্মীর জেলার নিহামা এলাকায় কয়েকজন সন্ত্রাসবাদী জড়ো হয়েছে বলে, সুনির্দিষ্ট খবর পেয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। এক পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন, এরপরই ওই এলাকা ঘিরে ফেলে অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছিল বাহিনী। অনুসন্ধান দলটির উপর আচমকা গুলি চালাতে শুরু করেছিল জঙ্গিরা। পাল্টা গুলিতে জবাব দেয় বাহিনীর সদস্যরা। অনুসন্ধান অভিযান পরিণত হয় সংঘর্ষে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে দফায় দফায় গুলি বিনিময় চলে। এরপর, জঙ্গিদের আস্তানাটি লক্ষ্য করে ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনী। যার জেরে দুটি বাড়িতে আগুন ধরে যায়।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে, কাশ্মীরের পুলিশ ইন্সপেক্টর ভি কে বিরধি বলেছেন, দুই পক্ষের গুলি বিনিময়ে দুই জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। নিহত জঙ্গিদের পরিচয় জানার চেষ্টা হচ্ছে। তারা কোন জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। সূত্রের খবর, নিহত দুই জঙ্গি হল, রিয়াজ আহমেদ দার এবং রইস আহমেদ। দুজনেই পুলওয়ামার কাকাপোরা গ্রামের বাসিন্দা এবং লস্কর-ই-তৈবার কমান্ডার। ২০১৫ সালে জঙ্গি দলে যোগ দিয়েছিল রিয়াজ। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে ধরার চেষ্টা করছিল সেনা। অতীতে বেশ কয়েকবার নিরাপত্তার বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়েছিল সে। অন্যদিকে, রইস আহমেদ জঙ্গি দলে যোগ দিয়েছিল ২০২১ সালে।