
নয়া দিল্লি: সোমবার ২৪ দিনে পড়ল ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের আন্দোলন (Jharkhand Protest)। তারপরেও সেরাজ্যের জোট সরকার কোনও সদর্থক পদক্ষেপ করছেন না বলে অভিযোগ। ফলে আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়াচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। রবিবারই রাঁচিতে রাহুল গান্ধী, হেমন্ত সোরেনের (Hemant Soren) কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে প্রতিবাদ দেখিয়েছেন তাঁরা। এখনও ছয়জন পড়ুয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে চিঠি লিখলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। পড়ুয়াদের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধানেরও আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে রাহুল গান্ধী লেখেন,”আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে দেখা করা উচিত। প্রয়োজনে বৈঠকের ব্যবস্থা করতে হবে।” রাহুল গান্ধীর মতে, এই বৈঠক হলে পড়ুয়াদের বাকি দাবিগুলি সমাধানের বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি আরও স্পষ্ট হবে।
এর একদিন আগেই আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন হেমন্ত সোরেন। সোমবার দুপুর ২টোয় সেই বৈঠক হওয়ার কথা। তার আগে আন্দোলনকারীরা হেমন্ত সোরেন, রাহুল গান্ধী এবং RJD নেতা তেজস্বী যাদবের কুশপুতুল পোড়ান। তাঁদের অভিযোগ, JMM-কংগ্রেস জোট সরকার তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনও যথাযথ পদক্ষেপ করছে না।
চিঠিতে রাহুল গান্ধী আরও লেখেন, “পড়ুয়াদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ এবং তাঁদের দাবিগুলি ন্যায্য। আমি পরামর্শ দিতে এই চিঠি লিখছি যে আপনি ব্যক্তিগতভাবে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করুন। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকারকে কংগ্রেস সমর্থন করে। সংবিধানে স্বীকৃত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগে পড়ুয়াদের বিভিন্ন আন্দোলনের পাশেও কংগ্রেস দাঁড়িয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের গঠিত কমিটির মাধ্যমে রাজ্য সরকার যে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে, তা স্বাগত জানিয়েছেন রাহুল। পড়ুয়াদের বেশ কয়েকটি দাবির বিষয়ে সরকারের সঙ্গে তাঁদের সমঝোতা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে রাহুলের বক্তব্য, তারপরও আন্দোলন চলছে এবং কয়েকজন পড়ুয়া অনির্দিষ্টকালের অনশনে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর উচিত তাঁদের কথা শোনা এবং সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা।
একইসঙ্গে বিজেপি এবং আর এস এস-এরও সমালোচনা করেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের আমলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা খারাপ হয়েছে এবং তা পড়ুয়াদের শোষণ ও দমনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
সোমবারের প্রস্তাবিত বৈঠকটি ঝাড়খণ্ড সরকার ও আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের মধ্যে সপ্তম দফার আলোচনা হতে চলেছে। এর আগে ছয় দফা বৈঠক হলেও কোনও সমাধানসূত্র বের হয়নি। আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের CBI তদন্ত এবং JSSC-CGL পরীক্ষা বাতিল করা। তাঁদের অভিযোগ, চাকরিপ্রার্থীদের সমস্যা নিয়ে সরকার রাজনীতি করছে। দাবি পূরণ না হলে আগামী ২০ অগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।