
আত্মপ্রকাশ করল ভারতের প্রথম আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নির্ভর ফাইটার জেট। ভারতের এই নেক্সট জেনারেশন এয়ারক্রাফট কোনও পাইলট ছাড়াই যুদ্ধের সময় উড়তে পারে। নিজেই শত্রুকে চিহ্নিত করে হামলা করবে, মিসাইল ছুড়বে। লক্ষ্য একটাই। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে, ভারতের পাইলটকে না পাঠিয়ে প্রাথমিকভাবে AI পাওয়ার্ড ই-পাইলট পাঠানো। এতে ক্ষয়ক্ষতি কম হবে। বাঁচবে ভারতীয়দের মূল্যবান প্রাণ। আর এই বিমান আত্মপ্রকাশ করতেই আমেরিকা, চিন, ব্রিটেন বা সুইডেনের সঙ্গে একাসনে বসল ভারত।
ভারতের প্রথম AI ফাইটার জেট
চিন যখন সিক্সথ জেনারেশন ফাইটার জেট ভারতের খুব কাছ মোতায়েন করছে, তখন ভারতও কি চুপ করে বসে থাকবে? এবার ভারতেই তৈরি হল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নির্ভর ফাইটার জেট। ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা ফ্লাইং ওয়েজ ডিফেন্স অ্যান্ড এয়ারোস্পেস সামনে আনল তাদের এফ ডব্লিউ ডি সুপ্রিম লাইট যুদ্ধবিমান। মানুষহীন ‘AI পাইলট’ যুদ্ধের সময় এই বিমান ওড়াবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ২৫০ কিলোগ্রাম ওজনের এই ফাইটার এয়ারক্রাফট গ্রাউন্ড টেস্টিং শুরু করেছে। ২০২৬-এর শেষ ত্রৈমাসিকে প্রথম উড়ান ভরবে সুপ্রিম লাইট বিমান। এই বিমানের দক্ষ AI পাইলট যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ট্যাকটিক্যাল ডেটার নিখুঁত বিশ্লেষণ করবে। তীক্ষ্ণ নজর রাখবে রেডারে ধরা পড়া শত্রুর প্রতিটি গতিবিধিতে। চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে ভারতীয় পাইলটদের প্রাণ যাবে না। একটি নয়, একসঙ্গে এরকম কয়েকশো AI ফাইটার জেট যুদ্ধে পাঠানো যাবে, কারণ, প্রথাগত যুদ্ধবিমানের চেয়ে এই সুপ্রিম লাইট বিমান তৈরির খরচ অনেক কম। প্রোগ্রামিংয়ের সাহায্যে একসঙ্গে বহু বিমানকে একযোগে হামলা করতে পাঠানো যাবে। কারও সঙ্গে কারও তালমিলের অভাব হবে না।
ভারতের নেক্সট জেনারেশন AI ফাইটার জেটে
যুদ্ধের সময় কন্ট্রোল কমান্ড সেন্টার থেকে আকাশে এই বিমানগুলিকে যেরকম খুশি সেভাবে চালানো যাবে। বিমানের ককপিটে মানুষ থাকবে না বলে যে কোনও দিকে, যে কোনও উচ্চতায় ওড়ানো যাবে। শত্রুর বিমানের গতি, ফ্লাইটের রাস্তা বা অ্যাঙ্গেল নিখুঁতভাবে হিসাব করে জানাবে AI পাইলট। যদি শত্রুর বিমান থেকে মিসাইল ছোড়া হয় তাহলে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে ফ্লেয়ারসের মতো কাউন্সটার measure ফায়ার করবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট পাইলট।
যুদ্ধে ভারতীয় সেনার পাইলটদের আদর্শ উইংম্যানের মতোই কাজ করবে এই বিমানের AI পাইলট। শত্রুরা যদি ভারতীয় পাইলটদের টার্গেটে ‘লক’ করে ফেলে, তাহলে দুজনের মাঝে এসে যাবে এই জেট। নিজেকে আক্রান্ত করবে, কিন্তু ভারতীয় সেনার প্রাণের ক্ষতি হতে দেবে না। এমনকী, হামলার সময় গোলাগুলি ফুরিয়ে গেলে নিজেই টার্গেটে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিস্ফোরণ ঘটাবে। অনেকটা আত্মঘাতী ড্রোনের মতো। প্রশ্ন উঠতে পারে, AI চালিত ড্রোন থাকতে আবার ফাইটার জেটের কী দরকার? এটা আসলে গতি ও হামলার ব্যাপকতার প্রশ্ন। AI ফাইটার জেট শব্দের চেয়েও দ্রুতগতিতে হামলা করবে। সঙ্গে কয়েক টনের মিসাইল ও বোমা নিয়ে উড়তে পারবে একটানা কয়েক হাজার কিলোমিটার। ড্রোন সেই তুলনায় বেশ খানিকটা কম পাল্লায়, হালকা বিস্ফোরক নিয়ে ওড়ে। শত্রুর মিসাইলকে পাশ কাটাতে, হিউম্যান পাইলটদের সঙ্গে কো-অর্ডিনেট করে কাজ করতে ‘সুপ্রিম লাইট’ বিমান অনেক জটিল গণনা করতে সক্ষম। তুলনায় ড্রোন সহজ সরল গাণিতিক হিসাব কষে, সেনার নির্দেশ মেনে উড়ে গিয়ে হামলা করে। যুদ্ধের ময়দানে দুজনের দুরকমের কাজ। তবে, ভারতের এই পদক্ষেপে একটা জিনিস স্পষ্ট। ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধের নিয়ন্ত্রণকে নিজেদের হাতে রাখতে টেকনোলজির ব্যবহারে কমতি রাখবে না ভারত। সেই সঙ্গে কম দামে, ভাল মানের দেশীয় অস্ত্র তৈরিতে চিনকেও জোর টক্কর দেবে।