
কোচি: যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্য়া হয়! ছিপছিপে চেহারা, এয়ারলাইন্সের পোশাকে গটগট করে হেঁটে যাচ্ছিলেন বিমানসেবিকা। যাত্রীদের চেকিং হলেও, তাঁকে এক সেকেন্ডের জন্যও দাঁড়াতে হয় না কোনওদিন। কিন্তু ওই যে ভাগ্য! ঠিক পথ আটকে দাঁড়াল বিমানবন্দরের আধিকারিক ও নিরাপত্তা কর্মীরা। আলাদা ঘরে ডেকে শুরু হল তল্লাশি। আর তাতেই যা বেরিয়ে এল, চক্ষু চড়কগাছ পুলিশ থেকে শুরু করে উপস্থিত সকলের। বিমানসেবিকার পায়ুদ্বার থেকে বের করা হল সোনা। তাও আবার ২-৫ গ্রাম নয়, প্রায় ১ কেজি সোনা! পায়ুদ্বারে ভরেই সোনা পাচার করছিলেন ওই বিমানসেবিকা। ধরা পড়তেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
এতদিন যাত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকত সোনা পাচারের। এবার বিমানসেবিকার বিরুদ্ধেও উঠল সোনা পাচারের অভিযোগ। বিদেশে এমন ঘটনা আগে ঘটলেও, ভারতে এই প্রথম কোনও উড়ান সংস্থার ক্রু-কে সোনা পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল।
জানা গিয়েছে, ডিরেক্টরেট অব রেভেনিউ ইন্টেলিজেন্সের কাছে আগেই গোপনসূত্রে খবর এসেছিল যে মাসকট থেকে কন্নুরে সোনা পাচার করে নিয়ে আসা হচ্ছে। এই কাজে জড়িত এক বিমানসেবিকাই। ওই সূত্র ধরেই কোচি বিমানবন্দরে গত ২৮ মে অপেক্ষা করছিলেন ডিআরআই আধিকারিকরা। সুরভী খাতুন নামক এক বিমানসেবিকার তল্লাশি চালিয়ে তাঁর পায়ুদ্বার থেকে ৯৬০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়। জানা গিয়েছে, ওই যুবতী কলকাতার বাসিন্দা।
পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, জেরার পর ওই বিমাসেবিকাকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পেশ করা হয়। তাঁকে কন্নুরের মহিলাদের জেলে ১৪ দিনের জন্য হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, তদন্তে জানা গিয়েছে, এই প্রথমবার নয়, এর আগেও একাধিকবার এভাবেই সোনা পাচার করেছেন ওই বিমানসেবিকা। কেরলের একটি সোনা পাচার গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত যুবতী। গোটা ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।