
মুম্বই: অযোগ্যরাও পাচ্ছিল আর্থিক প্রকল্পের সুবিধা। রাজ্য সরকার তথ্য যাচাই করতেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আগেই বাদ পড়েছিল ৮০ লাখ মহিলার নাম। পরে আরও নাম যোগ হয় এই তালিকায়। তাদের অ্যাকাউন্টে মাসে মাসে টাকা ঢোকা বন্ধ হয়েছে। তবে এবার আরও বড় এক পদক্ষেপ সরকারের। অযোগ্য যারা টাকা পেয়েছিল, তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ফেরত নেওয়া হবে।
মহারাষ্ট্রে রয়েছে লড়কি বহেন যোজনা। সম্প্রতিই কতজন অযোগ্য লড়কি বহেন যোজনা থেকে বাদ পড়েছেন, তাদের অ্যাকাউন্টে কত টাকা গিয়েছে, সেই নিয়ে আরটিআই করা হয়েছিল। তাতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসে।টিভি৯ মারাঠির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত রাজ্যের ৯২ লক্ষ অযোগ্য উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে লড়কি বহেন যোজনার টাকা গিয়েছে। মোট ৯৬০৫ কোটি টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে সরকারি অ্যাকাউন্ট থেকে।
অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মহিলাদের সহায়তা প্রদানের জন্য ‘লড়কি বহেন যোজনা’ চালু করা হয়েছিল। সরকার তাদের প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। তবে ২০২৪ সালের জুন মাসে চালু হওয়া এই প্রকল্পের সুযোগ অনেক ভুয়ো সুবিধাভোগীরাও নিয়েছে। সরকার ভেরিফিকেশনের পর প্রায় ৯২ লক্ষ উপভোক্তাকে অযোগ্য বলে ঘোষণা করেছে।
আরটিআই-এ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প থেকে অনেক সুবিধাভোগীর নাম বাদ দেওয়া এবং তাদের পরিচয় যাচাই করার পরেও এই প্রকল্পের সুবিধা অনেকে পাচ্ছেন। ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার কারণে ৬২ লক্ষ উপভোক্তার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ১৬ লক্ষ উপভোক্তার পরিবারের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার বেশি। দেখা গিয়েছে, সাড়ে চার লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও আধিকারিকদের পরিবারের মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
মহারাষ্ট্রে সঞ্জয় গান্ধী নিরাধর অনন্ত যোজনার আওতায় ইতিমধ্যেই ৩.৬ লক্ষ মহিলা উপকৃত হচ্ছিলেন। তাদের নাম বাদ পড়েছে। অন্যদিকে, আড়াই লক্ষ এমন উপভোক্তা পাওয়া গিয়েছে, যারা একই পরিবারের সদস্য। আবার দেখা গিয়েছে, ১.৮ লক্ষ উপভোক্তায় বয়স ৬৫ বছরের বেশি। জেলা পর্যায়ে তদন্তের পর ৯২ লক্ষ উপভোক্তাকে অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
বর্তমানে মহারাষ্ট্রের ১.৬৫ কোটি মহিলা ‘লড়কি বহেন যোজনা’র আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে এই সংখ্যা ছিল ২.১ কোটি। গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত উপভোক্তার সংখ্যা ছিল ২.৪৭ কোটি। এর ফলে সরকারের মাসিক বাজেট ২,৪৫০ কোটি হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু সরকারকে প্রতি মাসে ৩৬৪০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করতে হয়েছে। গত ২৪ মাসে অর্থাৎ ২ বছরে সরকার এই প্রকল্পের জন্য মোট ৭৬,২৬১ কোটি টাকা ব্যয় করেছে।
নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগ সূত্রে খবর, সরকার সকল অযোগ্য সুবিধাভোগীর কাছ থেকে টাকা আদায় করবে না। শুধুমাত্র সাড়ে চার লক্ষ সরকারি কর্মচারী, যারা এই সুবিধা গ্রহণ করেছেন, তাদের কাছ থেকেই টাকা আদায় করা হবে। সাধারণ জনগণের মধ্যে যারা অযোগ্য উপভোক্তা, তাদের কাছ থেকে কোনও টাকা আদায় করা হবে না।