
পুণে: জন্মদিন সেলিব্রেট করতে নিয়ে গিয়েছিল লোহাগড় দুর্গে। সেই দুর্গের উপর থেকেই পুণের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন তাঁর বাগদত্তা সিয়া গোয়েল ও সিয়ার প্রেমিক চেতন। হত্যাকাণ্ডকে দুর্ঘটনা বলেই চালানোর চেষ্টা করেছিল সিয়া। তবে পুলিশের কাছে ধরা পড়ে যায় তারা। পুণের ব্যবসায়ীর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে এখনও। তবে এখনও স্পষ্ট হচ্ছে না যে কেতনকে কেন খুন করলেন সিয়া। এর মধ্যেই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন নিহত কেতনের বাবা, বিশাল আগরওয়াল!
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীসের সঙ্গে দেখা করে সুবিচারের আর্জি জানিয়েছেন কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল। কেতনের মৃত্যুর তদন্তের জন্য সিট গঠনের দাবিও করেন। এরপরই বেরিয়ে তিনি বলেন যে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তিনি অনুরোধ করেছেন অপরাধীদের যেন কড়া শাস্তি দেওয়া হয়। অপরাধীর মৃত্যুদণ্ডের দাবি করেছেন তিনি।
কেতনের বাবার দাবি, তাঁর ছেলেকে হয়তো পরচুল বা উইগ পরার কারণেই খুন করা হয়েছে। তাঁর নিজেরও অবিশ্বাস্য লাগছে যে এই সামান্য কারণে কেউ খুন করতে পারে। তিনি বলেন, কেতন মাথায় ছোট্ট একটা হেয়ার প্যাচ ছিল। সেখানে চুল ছিল না। ওই অংশ ঢাকতেই পরচুল ব্যবহার করত কেতন। সিয়ার পরিবারকেও এই বিষয়ে জানানো হয়েছিল।
গত ১৮ জুন মহারাষ্ট্রের লোহাগড় দুর্গ থেকে কেতনকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও, পরে খুনের মামলা রেজিস্টার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সিয়া কেতনকে বিয়ে করতে রাজি ছিলেন না। পরিবারের চাপে তাদের বাগদান হয়। চলতি বছরের নভেম্বর মাসে তাদের বিয়ে করার কথা ছিল। রাজস্থানের উদয়পুর ফোর্টও বুক করা হয়েছিল ১৭ কোটি টাকা দিয়ে। সিয়া তাঁর প্রেমিক চেতনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কেতনকে খুন করে। সিয়া ও চেতন এখন একে অপরের উপরে খুনের দায় চাপাচ্ছে।
পুলিশ খতিয়ে দেখছে যে চেতন সিয়াকে তাদের ফোনের রেকর্ডিং ও মেসেজ নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করছিল কি না। গত মে মাসেও যখন সিয়া কেতনকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল, সেই কথাও ফাঁস করার ভয় দেখিয়ে সিয়াকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল কি না, দেখা হচ্ছে।