
নয়া দিল্লি: মমতা শিবিরের নাম ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। ‘ফুটবলার’ প্রতীকে উপনির্বাচনে লড়বে মমতা-শিবির। দলের নাম হবে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’। ঘোষণা করে দিল কমিশন। বৃহস্পতিবার কমিশন রায় দেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই কমিশনের দেওয়া তালিকা থেকে পছন্দের নাম ও প্রতীক মনোনীত করে নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেয় মমতা-শিবির। সূত্রের খবর, কমিশনে তিনটি নামের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কালীঘাট-শিবিরের তরফ থেকে। ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মমতা’ ও ‘তৃণমূল মমতা কংগ্রেস’ -এই তিনটি নামের একটি ব্যবহার করতে চেয়ে কমিশনকে জানায় মমতা শিবির। তাতে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামেই সবুজ সঙ্কেত দেয় কমিশন।
শুক্রবার দুপুরেই দুই শিবিরের কাছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সেক্রেটারি অশ্বিনী কুমার মহালের সাক্ষরিত নির্দেশ পৌঁছয়। নির্দেশনামায় স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে, ঋতব্রত শিবিরের নাম হবে ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস, প্রতীক হবে ‘খাম’।
কমিশনের কাছে দুই শিবিরেই বক্তব্য ছিল, ১৯৯৮ সাল থেকে ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ এই নামটি বাংলার মাটিতে একটা লিগাসি আছে। ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত রাজনীতিতে এই দলের গ্রাফ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নামটা রাখতে চেয়েছিল দুই শিবিরই। কমিশনের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এই নামটির কিছু অংশ দুই শিবিরই ব্যবহার করতে পারে। সেটা নতুন নামের সাফিক্স বা প্রিফিক্সে ব্যবহার করা যেতে পারে।
এদিকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফ্রি সিম্বলের তালিকা থেকে ফুটবলার প্রতীক বেছে নিয়েছে মমতা শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফুটবলার এই প্রতীক বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে। একুশের নির্বাচনের আগে বাংলার মাটিতে মমতাই স্লোগান তুলেছিলেন ‘খেলা হবে’। এই শব্দটি রাজনীতির ময়দানে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রীতিমতো এই শব্দটিকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে ব্যবহার করতেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতীকের মধ্যেই পরোক্ষভাবে সেই একই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন মমতা।
তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা যা বলেছি, তার কোনটা বিবেচনা করেনি। কমিশনের নির্দেশ অবৈধ। আমরা তিনটে নাম দিয়েছিলাম।
সিরিয়াল নম্বর ৬৫ ফুটবল প্লেয়ার, সিরিয়াল নম্বর ৮ ব্যাট আমরা দিয়েছিলাম। সেখানে থেকে কমিশন ফুটবল প্লেয়ার দিয়েছে। এটা সাময়িক অর্ডার।”