
ভিখারিকে ভিক্ষা দেওয়ার অপরাধে গ্রেফতার যুবক। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। এক ভিখিরিকে মাত্র ১০ টাকা ভিক্ষা দেওয়ার অপরাধে গ্রেফতার হয়েছেন এক যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে ইনদওরে। জানা গিয়েছে যুবক পেশায় একজন গাড়ি চালক। ভিক্ষা দেওয়ার অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়।
প্রসঙ্গত, জানুয়ারির ১ তারিখ থেকেই মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরকে ভিখারি শূন্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। সেই মতোই জারি করে ছিল নির্দেশিকা। কিছুদিন আগেই ভোপালকেও ভিখারি মুক্ত করার জন্য একই নির্দেশিকা জারি করা হয়। বলা হয় প্রকাশ্য রাস্তায় ভিক্ষা করা যাবে না। আর কেউ যদি ভিক্ষা দেন, তাহলে গ্রেফতার হবেন তিনি। ভিখিরিকে কোনও জিনিস কিনে দেওয়াটাও অপরাধ।
এক আধিকারিক জানান, ১৫ দিনের মধ্যে এই নিয়ে ভিক্ষা দেওয়ার অপরাধে দ্বিতীয় ব্যাক্তি গ্রেফতার হলেন। গত সোমবার ইন্দোরের লাসুডিয়া থানার অধীনে এক মন্দিরের সামনে বসে থাকা ভিখিরিকে ১০ টাকা দিতেই সেই গাড়িচালককে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাজ্য প্রশাসনের ভিখিরি উৎখাত দলের এক আধিকারিকের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
ভারতীয় দণ্ডবিধির ২২৩ নং ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হলে সেই ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাবাস কিংবা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে, কিংবা আইনি নির্দেশে কারাবাস এবং জরিমানা দুইই হতে পারে অভিযুক্তের।
প্রশাসনের ভিখিরি উৎখাত দলের এক আধিকারিক ফুল সিং সংবাদমাধ্যমকে জানান, “বিগত ৬ মাসে ইন্দোর শহরে ৬০০ জনেরও বেশি মানুষকে ভিক্ষা করতে দেখা গিয়েছে। এঁদের সকলকেই রিহ্যাবের জন্য পাঠানো হয়েছে। ১০০ বেশি শিশুকে চাইল্ড কেয়ার ইনস্টিটিউশনে পাঠানো হয়েছে।”
সেই আধিকারিক আরও জানান, বেলুন বিক্রি কিংবা ট্রাফিক সিগনালে কিছু জিনিস বিক্রি করার নামে ভিক্ষা করছিল ওঁরা। এমনকী মধ্যপ্রদেশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে ইন্দোর শহরে এমন ভিক্ষার ঘটনা নজরে এলে যে বা যারা জানাবে তাদের প্রত্যেককে ১০০০ টাকা দেওয়া হবে। এই মর্মে, কেন্দ্রের ইউনিয়ন মিনিস্ট্রি অফ সোশ্যাল জাস্টিস অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্টের অধীনে দেশের ১০টি শহরকে ভিখিরি-মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।