
নয়াদিল্লি: ইরানের স্কুলে প্রাণঘাতী হামলা। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ অভিযানের প্রথম দিনেই যুদ্ধ-অপরাধের মতো ঘটনা। যা নিয়ে সরব গোটা বিশ্ব। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উড়িয়ে দেওয়া ইরানের মিনাবে শাজ়ার তায়েব প্রাথমিক স্কুল। কমপক্ষে মৃত্যু হয় ১৭০ জনের। তাঁদের মধ্য়ে প্রত্যেকেই ছাত্রী। এই ঘটনার পরেই প্রশ্নের মুখে পড়ে আমেরিকা ও ইজ়রায়েল। গোটা ঘটনাকে ‘যুদ্ধ অপরাধ’ বলে অভিযোগ তোলেন বহু রাষ্ট্রনেতা। ইতিমধ্যেই মার্কিন সেনা আধিকারিকের সূত্র উদ্ধৃত করে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ইরানের ওই স্কুলে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নেপথ্যে আমেরিকান বাহিনীর নাম প্রকাশ্যে এসেছে।
কিন্তু ভারত? এই প্রসঙ্গে এখনও কোনও অবস্থান স্পষ্ট করেনি নয়াদিল্লি। মধ্যপ্রাচ্য়ের যুদ্ধে মুড়ি-মুড়কির মতো শেষ হয়ে যাচ্ছে প্রাণ। যাদের হয়তো যুদ্ধের সঙ্গে কোনও যোগসূত্র নেই, তাঁদেরও দিতে হচ্ছে খেসারত। বুধবার বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় তৈরি হওয়া সংঘাত পরিস্থিতি দু’জন ভারতীয় নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ। আর সেই ১৭০টি তাজা ইরানি প্রাণ? তাঁদের নিয়ে কী অবস্থান নয়াদিল্লির? বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক চলাকালীন এমনই প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্রকে।
আমেরিকার এই ‘হামলা’কে কীভাবে দেখছে ভারত? জানতে চাওয়া হয় নয়াদিল্লির বিদেশ-প্রতিনিধির কাছে। জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্য়েই উপসাগরীয় রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ওই দেশগুলিতে প্রচুর ভারতীয় রয়েছেন, যাদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সর্ব পরিসরে তৎপর। এছাড়াও যখন যখন সাধারণ নাগরিকের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, আমরা তার প্রতিবাদ করেছি।”
ইরানের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে সাধারণ মানুষকে যে খেসারত দিতে হচ্ছে, সেই কথাও বলেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র। ইতিমধ্যেই ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তাদের দেশের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি, স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মতো ঘটনা ভারত যে দুঃখিত, উদ্বিগ্ন — সেই বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে বলেই জানান তিনি।