
নয়া দিল্লি: ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করতে চলেছে মোদী সরকার। সোমবারই দেশ জুড়ে সিএএ অর্থাৎ নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইনের বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে। সূত্রের খবর সিএএ জারির জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে চুড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। আজ সন্ধ্যার মধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সরকারি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ক যাবতীয় নিয়ম কানুন জারি করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিবৃতি দেওয়া হবে। এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাজ্যের বিজেপি নেতারা বারবার বলেছেন, লোকসভা নির্বাচনের আগেই সিএএ কার্যকর করা হবে। সিএএ বিজ্ঞপ্তি জারির পরই সিএএ কার্যকর করা হতে পারে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ থেকে আগত অমুসলিম জনগোষ্ঠীকে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা আছে এই আইনে।
এর আগে বিভিন্ন রাজ্য সরকারের বিরোধিতায় এই আইন কার্যকর করা যায়নি। সূত্র মতে, এই আইন বলবৎ করার ক্ষেত্রে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা যথাসম্ভব ন্যুনতম করা হবে। রাজ্যের অসহযোগিতা থাকলে, মাঠে-ময়দানে সিএএ বলবৎ করা সম্ভব হবে না। ফলে, রাজ্য প্রশাসনের পরিকাঠামোকে এড়িয়ে, যথা সম্ভব কেন্দ্রীয় সরকারি পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে এই আইন কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। সূত্র আরও জানিয়েছে, এদিন রাত দশটার মধ্যেই সিএএ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হতে পারে।
সূত্রের খবর, বাংলা ও অসমে লোকসভা নির্বাচনের আগে যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, তার অন্যতম উদ্দেশ্য সিএএ পরবর্তী সম্ভাব্য হিংসা রোধ করা। সিএএ আইন হওয়ার পরই দিল্লির বুকে আন্দোলনে নেমেছিলেন এই আইনের বিরোধীরা। দেশের বিভিন্ন জায়গায় সিএএ বিরোধী আন্দোলন দেখা গিয়েছিল। দাঙ্গারও সাক্ষী হয়েছিল দিল্লি। সেই রকম কোনও পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সেই কারণেই লোকসভা নির্বাচনের অনেক আগেই বাংলা ও অসমে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ওই সূত্র।
২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগেই সিএএ প্রবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। কাজেই, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি এই আইন জারি না করতে পারলে, বিজেপি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে, এই অভিযোগ তোলার সুযোগ ছিল বিরোধীদের কাছে। পশ্চিমবঙ্গের একটা বড় অংশের মানুষের কাছে, বিশেষ করে, মতুয়া সম্প্রদায়ের কাছে নাগরিকত্ব লাভের জন্য এই আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতা, তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরও কয়েকদিন আগেই জানিয়েছিলেন, লোকসভা নির্বাচনের আগেই সিএএ কার্যকর করা হবে।