
নয়া দিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) ভারতরত্ন দেওয়া হোক। দাবি তুলল এনসিপিআই (NCPI)। সম্প্রতি, জ্ঞানেশ কুমারকে পদ্মভূষণ দেওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ভারতরত্ন দেওয়ার দাবি তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (PM Narendra Modi) চিঠি লিখল এনসিপিআই।
প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন এনসিপিআই-এর প্রেসিডেন্ট জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়। চিঠিতে তাঁর আবেদন, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করার জন্য দেশের সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হোক জ্ঞানেশকে। একইসঙ্গে সফলভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথাও উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে এনসিপিআই।
প্রধানমন্ত্রীকে আবেদন জানিয়ে চিঠিতে লেখা হয়েছে, “ভারতের গণতন্ত্রে নাগরিকদের কণ্ঠস্বর গভীরভাবে প্রতিধ্বনিত হয়। সেই গণতান্ত্রিক চেতনাকে সম্মান জানিয়ে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘ভারতরত্ন’ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আপনার কাছে আবেদন জানাচ্ছি। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান দেওয়ার আবেদন করা হচ্ছে।” কী কী কারণে এই সম্মান দেওয়া উচিত, তাও উল্লেখ করা হয়েছে। একটা হল, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে হিংসা, ভয়ভীতি ও রিগিংয়ের অভিযোগ জড়িয়ে ছিল। জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ভয়, রিগিং এবং রক্তপাত ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে।
ভোটার তালিকা স্বচ্ছ ও নির্ভুল রাখতে নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়া চালিয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মৃত ভোটার এবং যাঁরা অন্যত্র চলে গিয়েছেন তাঁদের নাম চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা আরও বেড়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও একটি কারণ হল ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ ভারতীয় গণতন্ত্রের ভাবনা রক্ষা। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সংবিধানের অন্যতম ভিত্তি। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা বজায় রেখে জ্ঞানেশ কুমার দেশের কোটি কোটি মানুষের নির্বাচন ব্যবস্থার উপর আস্থা আরও শক্তিশালী করেছেন।’
দেশজুড়ে জ্ঞানেশ বিতর্কের মাঝে শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, “পশ্চিমবঙ্গে যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে, তার কৃতিত্ব জ্ঞানেশ কুমারের। বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “একজন পশ্চিমবঙ্গবাসী হিসেবে বলতে পারি ভোট পূর্ববর্তী, ভোট চলাকালীন, ভোট পরবর্তী হিংসা থেকে যিনি পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচিয়েছেন এবং পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পাঁচ বছর পর যে নির্বাচন দেখেছেন, যেখানে মৃত ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে, ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে মানুষকে ভয়মুক্ত করে, তাঁর ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন যিনি, তিনি জ্ঞানেশ কুমার। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চেয়েছিলেন। ভোট দিতে চেয়েছিলেন। ত্রুটিমুক্ত ভোটার লিস্ট চেয়েছিলেন। সেটা যিনি করে দেখিয়েছেন তিনি জ্ঞানেশ কুমার। কমপক্ষে পদ্মভূষণ দেওয়া উচিত।”