Cow Slaughter Ban: গো-হত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়, হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

Supreme Court: তামিলনাড়ু সরকারের বক্তব্য, তামিলনাড়ু অ্যানিম্যাল প্রিজারভেশন আইন-সহ অন্যান্য প্রচলিত আইনেই কোথায় এবং কী শর্তে পশু জবাই করা যাবে, তা স্পষ্টভাবে নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। তবে এই আইনগুলিতে পশু জবাইয়ের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়নি।

Cow Slaughter Ban: গো-হত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়, হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট
ফাইল চিত্র।Image Credit source: PTI

|

Jul 13, 2026 | 2:51 PM

নয়া দিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) বড় জয় পেল বিজয়ের সরকার। মাদ্রাজ হাইকোর্ট (Madras High Court) গো-হত্যায়  স্থগিতাদেশ (Cow Slaughter Ban) দিয়ে যে রায় দিয়েছিল, তাতে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। হাইকোর্টের ওই নির্দেশে কিছু সংশোধনের প্রয়োজন বলেই উল্লেখ করেছে শীর্ষ আদালত।

মাদ্রাজ হাইকোর্ট তামিলনাড়ু সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল যে বকরি ইদ বা অন্য কোনও দিনে যেন কোনও গরু বা বাছুর হত্যা না করা হয়। তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন ১৯৫৮-র ৪ নম্বর ধারার অধীনে বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া সব সময়ের জন্য গো-হত্যায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে, দুই সপ্তাহ আগে তামিলনাড়ুর নতুন টিভিকে সরকার শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, গো-হত্যায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ১৯৭৬ সালে সরকারি নির্দেশ ও তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইনের বিরোধী।

আজ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ নোটিস জারি করে। শীর্ষ আদালতও উল্লেখ করে যে এই নির্দেশে সংশোধনের প্রয়োজন আছে।

তামিলনাড়ু সরকার হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে জানিয়েছিল, আইন যখন নির্দিষ্ট জায়গায় নির্দিষ্ট শ্রেণির গরু জবাইয়ের অনুমতি দেয়, তখন সেই আইনের বিপরীত কোনও বিচার নির্দেশ টিকতে পারে না।

মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন এবং ভি লক্ষ্মীনারায়ণনের ডিভিশন বেঞ্চ ১৯৭৬ সালের একটি নির্দেশের ভিত্তিতে এই রায় দেয়। ১৯৭৬ সালের ওই নির্দেশে দুধ উৎপাদন বাড়ানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতির স্বার্থে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছিল।

রায়ে বিচারপতি জি আর স্বামীনাথন বলেন, সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজ্য সরকারের দায়িত্ব গরু, বাছুর এবং দুধ দেওয়া ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত গবাদি পশু জবাই বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণপরিষদে (Constituent Assembly) সংবিধান নিয়ে আলোচনার সময়ও বলা হয়েছিল, গরু ভারতীয় সভ্যতার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত একটি শ্রদ্ধার প্রাণী, যার ঐতিহ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সময় থেকেই চলে আসছে।

ঐতিহ্য গতভাবে, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ বকরি ইদের সময় স্থানীয় নিয়ম মেনে ব্যক্তিগত জায়গা বা ধর্মীয় সমাবেশে পশু কুরবানি দেন। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর বেশ কয়েকটি হিন্দু মন্দিরেও বার্ষিক উৎসবের সময় ধর্মীয় আচার হিসেবে পশু বলি দেওয়া হয়। দাবি, সব কুরবানি বা বলি শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানায় করার নির্দেশ বাস্তবে কার্যকর করা কঠিন, কারণ উৎসবের সময় এত পশু জবাইয়ের মতো পরিকাঠামো অনেক কসাইখানাতেই নেই।

তামিলনাড়ু সরকারের বক্তব্য, তামিলনাড়ু অ্যানিম্যাল প্রিজারভেশন আইন-সহ অন্যান্য প্রচলিত আইনেই কোথায় এবং কী শর্তে পশু জবাই করা যাবে, তা স্পষ্টভাবে নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। তবে এই আইনগুলিতে পশু জবাইয়ের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়নি।

Follow Us