
নয়া দিল্লি: ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল। বিহার ও উত্তরপ্রদেশে ইতিমধ্যেই লাল সতর্কবার্তা রয়েছে। নেপালে রেকর্ড বৃষ্টিপাত এবং কোশী ও ত্রিশূলী নদীর প্লাবনে ভারতে গণ্ডক নদীতে তীব্র জলস্ফীতি দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত বন্যা পরিস্থিতিতে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জারি করা হয়েছে লাল সতর্কবার্তা। বিপদ এড়াতে ইতিমধ্যেই বিহারের পশ্চিম চম্পারণ এলাকা থেকে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে গেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ব্যারেজে রেকর্ড জলপ্রবাহ ও সতর্কবার্তা
নেপালের দেবঘাটে নারায়ণী নদী (ভারতে গণ্ডক নামে পরিচিত) বিপদসীমার আড়াই মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইসঙ্গে ভারতীয় সীমান্ত থেকে ১৬০ কিমি দূরে অবস্থিত ফুরকে খোলায় ত্রিশূলী নদীর জল বিপদসীমা ছাড়িয়েছে, যা গণ্ডকে মিশে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাচ্ছে।
ব্যারেজের সব গেট উন্মুক্ত: পরিস্থিতি সামাল দিতে বাল্মীফিনগরের গণ্ডক ব্যারেজের ৩৬টি গেটই খুলে দেওয়া হয়েছে।
জলের পরিমাণ: পূর্বে ব্যারেজ দিয়ে ৮০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হলেও সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের (CWC) তথ্য অনুযায়ী তা দ্রুত বেড়ে ২ লক্ষ ৫০ হাজার কিউসেকে পৌঁছতে চলেছে।
হাই অ্যালার্ট এলাকা: বিহারের পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ (মতিহারি), গোপালগঞ্জ, সরণ, মুজাফফরপুর, বৈশালী, সীতামারি ও সেওহারের পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশিনগরে লাল সতর্কবার্তা জারি রয়েছে।
কেন্দ্রীয় তৎপরতা ও উদ্ধারকাজ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একযোগে ময়দানে নেমেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, জলশক্তি মন্ত্রক এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গতকালই বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির পর্যালোচনা করেছেন।
বিহারে মোট ৯টি এনডিআরএফের টিম মোতায়েন করা হয়েছে। যার মধ্যে ২ টি টিম কেবল পশ্চিম চম্পারণেই রয়েছে। নেপালের ত্রাণ সহায়তায় দিল্লির হিন্দন এয়ারবেস থেকে ২০-৩০ টন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দ্বিতীয় C-17 বিমান রওনা দিয়েছে। সীমান্তবর্তী দুই রাজ্যের প্রশাসনই নীচু এলাকা খালি করার কাজে গতি বাড়িয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন।