
নয়াদিল্লি: নেতাজির অন্তর্ধান রহস্যের জট এখনও কাটেনি। ১৯৪৫ সালের ১৮ অগস্ট তাইওয়ানে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। আবার তা মানতে চান না অনেক নেতাজি বিশেষজ্ঞই। এই অবস্থায় জাপানের টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে রাখা নেতাজির ‘চিতাভস্ম’ ভারতে ফেরাতে চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন নেতাজি-কন্যা অনিতা বসু পাফ। জাপান থেকে নেতাজির চিতাভস্ম ভারতে এনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চান তিনি। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য জানতে চাইল শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।
নেতাজির মৃত্যু নিয়ে কয়েক দশক ধরে বিতর্ক চলছে। একাধিক কমিশন গঠন করেছে কেন্দ্র। শাহনওয়াজ কমিটি ও বিচারপতি জিডি খোসলা কমিশনের বক্তব্য, তাইওয়ানে তাইপেইয়ে বিমান দুর্ঘটনাতে নেতাজির মৃত্যু হয়। পাল্টা বিচারপতি মুখার্জি কমিশন এই তত্ত্ব গ্রহণ করেনি। ২০০৬ সালের মে মাসে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয় তারা। সেখানে বলা হয়, ১৯৪৫ সালে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়নি এবং রেনকোজি মন্দিরে রাখা চিতাভস্ম নেতাজির নয়। যদিও তৎকালীন মনমোহন সরকার সেই রিপোর্ট মেনে নেয়নি।
বলা হয়, তাইওয়ানে নেতাজির মৃত্যুর পর দেহ দাহ করা হয়। তারপর চিতাভস্ম জাপানে নিয়ে যাওয়া হয়। রেনকোজি মন্দিরে আট দশক ধরে সংরক্ষিত রয়েছে। রেনকোজি মন্দিরে রাখা চিতাভস্ম নেতাজির কি না, তা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অনিতা বসু পাফ। এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে তাঁর আবেদনের শুনানি হয়। অনিতা বসু পাফের পক্ষে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তিনি বলেন, জাপান থেকে নেতাজির নিয়ে এসে ভারতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চান তাঁর কন্যা। এই আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান জানতে চেয়ে নোটিস ইস্যু করল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর বেঞ্চ। এখন কেন্দ্র কী জবাব দেয়, সেটাই দেখার।