
নয়া দিল্লি: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে, জীবন বিমা করাতে বা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে দরকার পড়ে একজন নমিনির। অনেকেই মনে করেন যে কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর পর, মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনিই সমস্ত টাকা বা সম্পত্তির মালিক হবেন। আইনত কিন্তু এটা সঠিক নয়। একজন নমিনি শুধুমাত্র সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক, মালিক নন। উইল আর নমিনির মধ্যে পার্থক্য কী, জানেন?
কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর পর, ব্যাঙ্ক, বিমা বা মিউচুয়াল ফান্ড কোম্পানি প্রথমে মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মনোনয়নের মূল উদ্দেশ্যই হল, প্রয়োজনের সময় পরিবার যেন কোনও কাগজপত্র ছাড়াই সহজে অর্থ পেতে পারেন, তা নিশ্চিত করা।
তবে অর্থ হাতে পাওয়ার পর মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনি এর স্থায়ী মালিক হন না। একটি বৈধ উইল বা দেশের উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, টাকা বা সম্পত্তি বৈধ উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত নমিনি কেবল একজন তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করেন। সম্পত্তি শেষ পর্যন্ত কে পাবেন, তা নির্ধারণের চূড়ান্ত ক্ষমতা কেবল উইলেই রয়েছে।
১. উইল থাকলে:
যদি মৃত ব্যক্তি মৃত্যুর আগে একটি বৈধ উইল করে যান, তবে উইলে যাঁর নাম নির্দিষ্ট করে লেখা রয়েছে, তিনিই সম্পত্তি বা টাকার আসল মালিক হবেন।
উদাহরণ হিসাবে যদি একজন ব্যক্তি তাঁর ব্যাঙ্কে নমিনি হিসাবে তাঁর ছোট ছেলেকে উল্লেখ করেন, কিন্তু উইলে লিখে যান যে পুরো টাকা তাঁর স্ত্রী পাবেন, তবে আইনত পুরো টাকার মালিক স্ত্রী-ই হবেন, ছোট ছেলে, যিনি নমিনি, তিনি নন।
২. উইল না থাকলে:
যদি কোনও ব্যক্তি উইল না করে মারা যান, তবে উত্তরাধিকার আইন (Personal Succession Law) অনুযায়ী তাঁর সমস্ত সম্পত্তি বা টাকা তাঁর আইনি উত্তরাধিকারীদের (Legal Heirs) মধ্যে বন্টন হয়। যেমন, হিন্দু উত্তরাধিকার আইন বা মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী স্ত্রী, সন্তান, মা ইত্যাদি নির্দিষ্ট উত্তরাধিকারীরা নিজের আইনি অংশ বা অধিকার পান।
নমিনি কোনও সম্পত্তির মালিক নন, বরং একজন রক্ষক। নমিনি রাখা হয় মূলত এই কারণগুলিতে-
সহজ হস্তান্তর: কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর পর ব্যাঙ্ক, বিমা কোম্পানি বা আবাসন (Housing Society) যেন জটিল আইনি প্রক্রিয়ায় না জড়িয়ে, দ্রুত মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায়, সেই জন্য নমিনির প্রয়োজন হয়।
দায়িত্ব: ব্যাঙ্ক বা প্রতিষ্ঠান নমিনির হাতে টাকা তুলে দিয়ে তাদের দায়মুক্ত হয়। টাকা হাতে পাওয়ার পর নমিনির আইনি দায়িত্ব হল, সেই টাকা মৃত ব্যক্তির আইনি উত্তরাধিকারী বা যাঁর নামে উইল আছে, তাঁর কাছে বুঝিয়ে দেওয়া।
নমিনি যদি নিজেই একজন আইনি উত্তরাধিকারী হন যেমন, একমাত্র সন্তান, তবে তিনি তাঁর নির্ধারিত অংশ পাবেন। কিন্তু যদি অন্য আইনি উত্তরাধিকারী থাকেন, তিনি একা সমস্ত সম্পত্তির মালিক দাবি করতে পারেন না।
উইল না থাকলে, সম্পত্তি সাধারণ উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী বন্টন করা হয়। তবে পরিবারে বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হলে উইল ছাড়া গুরুতর বিবাদ দেখা দিতে পারে। উদাহরণ হিসাবে ধরা যাক, যদি বাবা-মা তাদের আয়ের একটি বড় অংশ প্রতিবন্ধী সন্তানকে দিতে চান, কোনও বয়স্ক ভাই বা বোনকে আর্থিক সহায়তা দিতে চান অথবা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন করতে চান, তবে তা শুধুমাত্র একটি উইলের মাধ্যমেই করা সম্ভব।
নমিনি এবং উইলের মধ্যে পার্থক্য না জানার কারণেই অনেক পরিবারে আইনি বিবাদের জন্ম দেয়। কেউ কেউ বিয়ের পর ব্যাঙ্কে নমিনির তথ্য পরিবর্তন করলেও, আগে লেখা উইলটি সংশোধন করতে ভুলে যান। আবার অনেকে উইল লিখলেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং পলিসিতে নমিনির তথ্য আপডেট করেন না। এই দুটি নথির মধ্যে তথ্যের অমিল দেখা দিলে তা আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে।