
কিশতোয়ার: জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলায় ১৫ বছরের আদিবাসী কিশোরীকে নির্যাতনের অভিযোগ। ধর্ষণে মদত ও বেআইনিভাবে গর্ভপাত ঘটিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় এক সরকারি হাসপাতালের নার্সকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃত মহিলা কিশতোয়ারের জেলা হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন সরকারি স্কুলের শিক্ষক। অভিযোগ মাসের পর মাস ধরে ওই নাবালিকাকে একাধিকবার নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি গোপন করার চক্রান্ত করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক ও তার ভাই মেয়েটির জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর উদ্দেশ্যে তাকে কিছু বিষাক্ত ওষুধ খাইয়েছিল বলে অভিযোগ।
ওষুধ খাওয়ার পর কিশোরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে প্রথমে চাট্রুর এক স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে কিশতোয়ার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাবালিকা একটি মৃত সন্তান প্রসব করে। পরে গত ২০ আগস্ট তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার তদন্তে নেমে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) জানতে পারে, অভিযুক্তদের এই বেআইনি গর্ভপাতের চেষ্টায় প্রত্যক্ষ মদত ছিল হাসপাতালের নার্সের। এছাড়া অপরাধ গোপন করতে সাহায্য করার অভিযোগে ওই হাসপাতালেরই এক চুক্তিভিত্তিক সাফাইকর্মীকে ইতিমধ্যেই চাকরি থেকে বরখাস্ত ও গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তকারী আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, প্রধান অভিযুক্ত শিক্ষক, তার ভাই এবং ওই নার্স সহ মোট ছয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), পকসো (POCSO) আইন এবং তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।