
নয়া দিল্লি: মূল্যবৃদ্ধির ঝাঁঝ লেগেছে পেঁয়াজেও। চিনির পর পেঁয়াজেরও দাম বাড়ছে (Onion Price Hike)। দেশের বেশ কিছু বাজারে ইতিমধ্যেই ৫০ টাকার গণ্ডি পার করেছে। এই পরিস্থিতিতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। পেঁয়াজের দাম যাতে হঠাৎ করে বেড়ে না যায়, তার জন্য বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার।
বাজারে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করতে বাফার স্টক থেকে ধাপে ধাপে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রেল এবং সড়ক পথে দেশের বিভিন্ন বড় শহরে পেঁয়াজ পাঠানো হবে। পেঁয়াজ সরবরাহের জন্য ছুটছে বিশেষ ট্রেন কান্দা এক্সপ্রেস। ইতিমধ্যেই নাসিক থেকে নয়া দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছে প্রথম ‘কান্দা এক্সপ্রেস’।
সরকার জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসে দেশের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত পেঁয়াজ রয়েছে। ২০২৫-২৬ সালে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে আনুমানিক ৩০৭.৩৭ লক্ষ মেট্রিক টন। আগের বছরও উৎপাদন ছিল ৩০৭.৬৭ লক্ষ মেট্রিক টন।
এদিকে, ২০২৬-২৭ সালের জন্য ২ লক্ষ লক্ষ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বাফার স্টক সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল সরকার। ১৫ মে থেকে এনএএফইডি (NAFED) এবং এনসিসিএফ (NCCF)-এর মাধ্যমে সেই সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১.২১ লক্ষ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বাফারের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই প্রথমবার সেন্ট্রাল ওয়ারহাউসিং কর্পোরেশন (Central Warehousing Corporation)-কে বাফার স্টকের পেঁয়াজ সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারের বক্তব্য, ওনাম, গণেশ চতুর্থী, দুর্গা পুজো দশেরা, দিওয়ালি এবং বিয়ের মরসুমে সাধারণত পেঁয়াজের চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে এই সময় পেঁয়াজের দামে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আগেভাগেই বাফার স্টক থেকে পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সরকার জানিয়েছে, এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষ ৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনতে পারবেন। NCCF, NAFED, সফল এবং কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারের বিভিন্ন আউটলেট ও মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমে এই পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে।
বাফার স্টকের পেঁয়াজ দ্রুত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ‘কান্দা এক্সপ্রেস’। গত বছর ১৪টি রেল রেকের মাধ্যমে প্রায় ১২,০০০ টন পেঁয়াজ দেশের ৫টি শহরে পাঠানো হয়েছিল। এই বছর সেই পরিষেবা আরও বড় আকার নিয়েছে। মোট ৮৬টি রেল রেকের মাধ্যমে প্রায় ৮৮,০০০ টন পেঁয়াজ দেশের ১৬টি শহরে পাঠানো হচ্ছে। নাসিক থেকে নয়াদিল্লির উদ্দেশে প্রথম ‘কান্দা এক্সপ্রেস’ ইতিমধ্যেই রওনা দিয়েছে। একই সঙ্গে সড়কপথেও চেন্নাই, কলকাতা, এর্নাকুলাম, গুয়াহাটি, বারাণসী, লখনউ, পটনা, চণ্ডীগড়, জম্মু এবং অমৃতসরে পেঁয়াজ পাঠানো হচ্ছে।
দেশে পেঁয়াজের জোগান পর্যাপ্ত থাকার কারণে রফতানিও চালু রয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ভারত থেকে প্রায় ৩.৮২ লক্ষ মেট্রিক টন পেঁয়াজ রফতানি হয়েছে। মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং নেপালে পেঁয়াজ রফতানি করা হয়েছে।
পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক দফতর দেশের ৫৭৯টি কেন্দ্রে প্রতিদিন ৪১টি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম পর্যবেক্ষণ করছে। পেঁয়াজের বাজারদর, বাজারে সরবরাহ, চাহিদা এবং আমদানির পরিস্থিতি দেখে বাফার স্টক থেকে কতটা পেঁয়াজ কোথায় পাঠানো হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেই জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও বেশি পরিমাণ পেঁয়াজ বাজারে ছাড়া হতে পারে বলেও জানিয়েছে সরকার।
সরকার জানিয়েছে, টমেটো, আলু এবং ছোলা ডালের দাম গত বছরের তুলনায় কম রয়েছে। আগামী দিনগুলিতেও পেঁয়াজের দাম, সরবরাহ ও চাহিদার উপর নজর রাখা হবে। বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে আরও পদক্ষেপ করা হবে।