
নয়া দিল্লি: মুখ মিষ্টি করা বন্ধ করিয়েছে চিনির দাম। ২০ দিনে ২০ টাকা বেড়েছে চিনির দাম। এবার কাঁদিয়ে ছাড়ছে পেঁয়াজের দামও (Onion Price)। গোটা দেশ জুড়েই ঊর্ধ্বমুখী পেঁয়াজের দাম। প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। এই পরিস্থিতিতে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় সরকারের।
জানা গিয়েছে, দেশে পেঁয়াজের জোগান বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ ট্রেনে করে পেঁয়াজ পাঠাচ্ছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে কান্দা এক্সপ্রেস। মূলত নাসিক থেকে এই পেঁয়াজ আসছে। এটিকে দেশের পেঁয়াজের রাজধানীও বলা হয়। সেখান থেকেই পেঁয়াজ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে দেশর বিভিন্ন প্রান্তে।
কনজিউমার অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি নিধি খারে বলেন যে আগামী বুধবার অর্থাৎ ২৬ অগস্টের মধ্যে চেন্নাই, মাদুরাই, দিল্লি, এর্নাকুলাম ও গুয়াহাটিতে পৌঁছে যাবে। এরপরে আরও শহরকে যুক্ত করা হবে এই তালিকায়।
জানা গিয়েছে, সরবরাহের সমস্যার কারণে বিগত কয়েক দিনে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। যেখানে গত বছর অগস্ট মাসের শেষভাগে পেঁয়াজের দাম ছিল ২৭ টাকা ৩৭ পয়সা প্রতি কেজি, সেখানেই এই বছর পেঁয়াজের দাম বেড়ে কেজি প্রতি ৪৩.৫৩ টাকায় পৌঁছেছে। গড় পাইকারি মূল্য ৬৮ শতাংশ বেড়ে ৩৫ টাকা ৫৮ পয়সা হয়ে গিয়েছে প্রতি কেজি। গত বছর দাম ছিল ২১ টাকা ২৩ পয়সা।
দিল্লিতে বর্তমানে পেঁয়াজের দাম ৫৫ টাকা প্রতি কেজি, গত বছর দাম ছিল ৩৫ টাকা। চেন্নাইতে যেখানে গত বছর এই সময়ে পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৩ টাকা, তা এখন বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে। কলকাতায় এখন পেঁয়াজের দাম ৫৩ টাকা প্রতি কেজি।
গত বছর ১৪টি রেলওয়ে রেকে ১২ হাজার টন পেঁয়াজ পাঠানো হয়েছিল পাঁচটি শহরে। সেখানেই এই বছর ৮৬টি রেকে প্রায় ৮৮ হাজার টন পেঁয়াজ পাঠানো হচ্ছে ১৬টি বড় শহরে। সরকারের দাবি, দ্রুত সরবরাহ হচ্ছে, শীঘ্রই পেঁয়াজের দাম অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। দেশে পেঁয়াজের বাফার স্টকও পর্যাপ্ত রয়েছে বলেই জানানো হয়েছে। আগামী কয়েক মাস পেঁয়াজের জোগানে ঘাটতি হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। গত বছরের মতো এই বছরেও ৩০৭.৩৭ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হবে বলেই অনুমান।
সরকার জানিয়েছে, এই মূল্যবৃদ্ধি সাময়িক। নতুন স্টক বাজারে পৌঁছে গেলেই দাম আবার কমে যাবে। প্রতি বছরই সাধারণত অগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়ে আবহাওয়া সংক্রান্ত পরিবর্তন, উৎসবের মরশুমের আগে চাহিদা ও সাপ্লাই চেইনের সমস্যার জন্য।