
মুম্বই: আগে ভেঙেছিল কোমর, এবার সরাসরি মাথায় ঘা। শিবসেনাকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিল শিবসেনাই। নামে শুধু ‘আসল’ নিয়েই টানাটানি। মহারাষ্ট্রে অপারেশন টাইগার (Operation Tiger) চালানোর কথা স্বীকার করে নিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস (Devendra Fadnavis)। কেমনভাবে হল এই অপারেশন টাইগার? উদ্ধব ঠাকরে (Uddhav Thackeray)-একনাথ শিন্ডে(Eknath Shinde)-রাই বা কী বলছেন?
মহারাষ্ট্র ২০২৩ সালে দেখেছিল শিবসেনার অন্তর্দ্বন্দ্ব। দলেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন একনাথ শিন্ডে, বেরিয়ে গিয়েছিলেন ৪০ জন বিধায়ককে নিয়ে। তারা নিজেদের আসল শিবসেনা বলে দাবি করেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিজেপির সঙ্গে জোট সরকার গঠন করেন। কাট টু ২০২৬। ফের বিদ্রোহ হল। শিবসেনা (ইউবিটি), যার নেতা উদ্ধব ঠাকরে, তার দলে ফের ভাঙন। এবার শিবসেনা (ইউবিটি)-র ছয় সাংসদ মিশে যেতে চাইছেন একনাথ শিন্ডের শিবসেনার সঙ্গে। আজ, সোমবার তারা দিল্লিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শিবসেনার সঙ্গে মিশে যাবেন। উদ্ধব ঠাকরের কাছে পড়ে থাকবে মাত্র তিনজন সাংসদ।
দলে ভাঙন ধরার পরই শিবসেনা (ইউবিটি)-র রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত দাবি করেছিলেন যে রাজ্যে “অপারেশন টাইগার” চলছে। টাকার বিনিময়ে সাংসদদের কিনে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও শিবসেনার বিদ্রোহী সাংসদরাই এই দাবি মানতে চাননি। তবে এখন বিজেপি ও শিবসেনা- দুই দলই অপারেশন টাইগারের কথা মেনে নিয়েছেন।
শিবসেনা(ইউবিটি)-র ভাঙন নিয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়ণবীস বলেন, “অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে। শরীর সুস্থ আছে। কাউকে চিন্তা করতে হবে না। যাদের আত্ম-পর্যালোচনার দরকার, তারা সেটা করুক।”
উপমুখ্য়মন্ত্রী তথা শিবসেনা নেতা একনাথ শিন্ডেও বুক ফুলিয়ে বলেন, “আমি যখন কোনও অপারেশনের দায়িত্ব নিই, তা সম্পূর্ণ করি। আমি ইতিমধ্যেই সেই প্রমাণ দিয়েছি”। অপারেশন টাইগার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনারা শীঘ্রই ব্রেকিং নিউজ পাবেন। সাংসদদের গালিগালাজ করবেন, তারপর আবার চাইবেন যে তারা ফেরত আসুক। কোনও কেমিক্যাল লোচা (সমস্য়া) আছে।”
দেবেন্দ্র ফড়ণবীসও বলেন, “কারোর সংশয় নেই যে একনাথ শিন্ডের শিবসেনাই আসল শিবসেনা। বালাসাহেবের তীর-ধনুক প্রতীক একনাথ শিন্ডের। ওঁ বালাসাহেবের ঐতিহ্যকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।”
অন্যদিকে জবাব দিয়েছেন উদ্ধব ঠাকরেও। তিনি বলেছেন যে সাংসদদের এই বিদ্রোহের জবাব দেবেন। তিনিও পাল্টা লড়াই করবেন। উদ্ধব বলেন, “আমার মনোবল ভাঙতে পারবে না। এটা বিজেপির অপরাধ। আমার নেতৃত্বে যে দল আছে, সেটাই আসল শিবসেনা। বিজেপি আসল শিবসেনা চুরি নয়তো শেষ করার চেষ্টা করছে বিজেপি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আগেও এই ধরনের সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছি। এগুলো আর আমাকে নাড়িয়ে দেয় না…ভোটের সময় আপনাদের এর প্রতিশোধ নেওয়া উচিত।”
সঞ্জয় রাউত বলেন, “অনেকে এল, অনেকে গেল…কিন্তু ঠাকরে-রা রয়ে গিয়েছে।”
শিবসেনার বিদ্রোহী সাংসদরা যেমন দল বদলের আর্জি জানিয়েছেন, তেমনই পাল্টা ঠাকরে শিবিরও এই বিদ্রোহ রুখতে পিটিশন জমা দিয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে। এবার স্পিকারের হাতেই সিদ্ধান্ত, তিনি এই ছয় বিদ্রোহী সাংসদের শিবসেনায় মিশে যাওয়াকে স্বীকৃতি দেবেন নাকি তাঁরা দলত্যাগ বিরোধী আইনের গেরোয় ফেঁসে যাবেন?