
নয়া দিল্লি: সরকার ও বিরোধী—দুই পক্ষের তীব্র অনড় অবস্থানের জেরে আজ আক্ষরিক অর্থেই ‘ওয়াশ আউট’ হতে চলেছে সংসদের বাদল অধিবেশন। বিতর্কিত ইস্যুতে আলোচনা চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পিকারকে চিঠি পাঠালেও নিজেদের দাবিতে অটল বিরোধীরা।
বিরোধীদের স্পষ্ট বক্তব্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পাসের সময়ই যাবতীয় আলোচনা সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। সেই সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত ছিলেন না। তাই এখন নতুন করে কোনো আলোচনার প্রয়োজন নেই, বরং ছররা গুলি
চালানোর অনুমতি কে দিয়েছিল, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি বিবৃতি দিতে হবে।
সরকার পক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বিরোধীরা যদি নীতিগত আলোচনায় রাজি থাকে, তবে প্রয়োজনে বাদল অধিবেশনের মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে। বুধবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী জানিয়ে দেন, শাহের বক্তব্য শুনতে তাঁরা আগ্রহী নন। একে সংসদের ‘উলটপুরাণ’ হিসাবে দেখছেন সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। সাধারণত সংসদে বিরোধীরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার দাবি জানায় এবং সরকারপক্ষ তাদের প্রশ্নের উত্তর দেয়। এ ক্ষেত্রে সরকার আলোচনায় আগ্রহী কিন্তু বিরোধী শিবির ‘না’ বলে দিচ্ছে। কার্যতই একটা নজিরবিহীন পরিস্থিতি।
অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর প্রথা মেনে স্পিকারের কক্ষে সৌজন্যমূলক চা-চক্রের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং উপস্থিত থাকবেন। এই অনুষ্ঠানে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী যোগ দেন কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।