
নয়া দিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) প্রশংসায় পঞ্চমুখ জ়েন-জ়ি-রা। রবিবার ‘বিকশিত ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম ২০২৬’ (Vikshit Vibrant Village Program) প্রোগ্রাম ছিল। সেখানেই ভার্চুয়ালি যুবক-যুবতীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।দেশের বিভিন্ন রাজ্যের ২৪৫টিরও বেশি জেলার ৫ হাজারেরও বেশি যুবক-যুবতী এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ‘মাই ভারত’ এবং ‘বিকশিত ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম’-এ অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন তাঁরা। জানান, মোদীর জমানায় কীভাবে প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা কতটা উন্নত হয়েছে, কীভাবে দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছে গিয়েছে ‘বিকশিত ভারত’-এর সুবিধা।
‘মাই ভারত’-এর এক অংশগ্রহণকারী জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের সীমান্তবর্তী এমন সব গ্রাম পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন, যেখানে যাওয়ার কথা আগে কখনও ভাবেননি। আরও একজন বলেন,”সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেখে তাঁর মনে হয়েছে,’বিকশিত ভারতের’ সুবিধা এখন দেশের প্রত্যন্ত এলাকাতেও পৌঁছে গিয়েছে। স্কুলগুলিতেও উন্নত ভারতের ভাবনা বাস্তবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
‘বিকশিত ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ অংশগ্রহণকারী নিকিতা জানান, চাঙ্গো যাওয়ার আগে ভেবেছিলেন, সেখানে কোনও বিদ্যুত থাকবে না। নেটওয়ার্ক থাকবে না। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন ভিডিয়ো দেখে সেরকমই ধারণা তৈরি হয়েছিল তাঁর। কিন্তু, সেখানে পৌঁছে তাঁর সব ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়। সেখানে পৌঁছে দেখেন, উঁচু পাহাড়ের মাঝে উন্নত রাস্তা, বিদ্যুৎ ও উন্নত মোবাইল নেটওয়ার্ক। যা দেখে তিনি অবাক হয়ে যান। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন,আগে এই সুবিধাগুলি ছিল না। আগে জীবন-যাপন আরও কষ্টকর ছিল।
নিকিতার কথায়, গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় রাস্তা নির্মাণ হওয়ায় এলাকায় বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয় জল পৌঁছত না। কিন্তু, এখন জল জীবন মিশন-এর আওতায় প্রতিটি বাড়িতে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও এখন এলাকায় ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক রয়েছে। ‘আয়ুষ্মান ভারত’প্রকল্পের ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও মানুষের আস্থা বেড়েছে এবং তাঁদের জীবন আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে।
দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ-এর প্রতিনিধি দিব্যাংশু যোশী জানান,’মাই ভারত’-এর উদ্যোগে সীমান্তবর্তী গ্রাম সফরের সুযোগ পাওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম বড় অভিজ্ঞতা। বলেন, “বিকশিত ভারতের লক্ষ্য পূরণে জেন-জি সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের কাছে জেন-জি মানে নেশন বিল্ডিং, চরিত্র গঠন, সেবা এবং উদ্ভাবন। ‘নেশন ফার্স্ট’-ই আমাদের প্রজন্মের মূলমন্ত্র।”
‘মাই ভারত’-এর মাধ্যমে পরিচালিত ‘বিকশিত ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম’ প্রধানমন্ত্রীর মোদীর বিশেষ ভাবনার উপর তৈরি। মোদীর সেই ভাবনায় মূলত, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিকে দেশের প্রথম গ্রাম হিসেবে বিবেচনা করে তাদের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ৪ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দু’দফায় এই কর্মসূচি আয়োজিত হয়। কর্মসূচিতে লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের ৭৪টি গ্রাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য যুবসমাজকে সীমান্তবর্তী এলাকার সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং উন্নয়নের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা দেওয়া।