
নয়া দিল্লি: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে (Tarique Rahman) আমন্ত্রণ জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। সেপ্টেম্বর মাসে ব্রিকস (BRICS) সম্মেলন রয়েছে নয়া দিল্লিতে। সেখানেই আমন্ত্রণ করা হয়েছে তারেককে। এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জানান, নয়া দিল্লি থেকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্র ইতিমধ্যেই ঢাকায় পৌঁছেছে। এবং তা প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, তারেক রহমানের এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাহলে, সেক্ষেত্রে বলা যেতে পারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার ভারত সফরে আসছেন তারেক রহমান।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে ১৮তম ব্রিকস (BRICS)সম্মেলন। এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ১১ সদস্য দেশকে আমন্ত্রণ জানায় আয়োজক দেশ। ২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। তবে, বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য বা পর্যবেক্ষক দেশ নয়। সেক্ষেত্রে,বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জোরদার করার কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে, তারেক রহমান ভারতে আসবেন কি না, সেই বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। সেক্ষেত্রে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফর চূড়ান্ত হলে, বাংলাদেশে বিএনপি ক্ষমতায় ফেরার পর প্রথমবার মুখোমুখি হতে পারেন নরেন্দ্র মোদী ও তারেক রহমান। দুই নেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামি লিগ সরকারের সঙ্গে নয়া দিল্লির সম্পর্ক ভালো থাকলেও, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঢাকার বিদেশনীতি কিছুটা ভিন্ন পথে এগোচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তারেক রহমান প্রথমে মালয়েশিয়া হয়ে চিন সফর করেন। তারপর ভারত সফরের পরিকল্পনা করেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ শেখ হাসিনার আমলের ‘ভারত-অগ্রাধিকার’ নীতির থেকে কিছুটা ভিন্ন বার্তাই বহন করে।
এদিকে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশ এই অঞ্চলে শান্তি চায়। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়বে বলেই আমরা আশা করি।”
সরকারি সূত্রে খবর, ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তারেক রহমান বৈঠকে বসতে পারেন। ভারত-বাংলাদেশ পারস্পরিক সম্পর্ক, সীমান্ত, বাণিজ্য, সংযোগ, নিরাপত্তা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এদিকে, ব্রিকস সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা-সহ ১১ সদস্যের ব্রিকস গোষ্ঠীর নেতারাও উপস্থিত থাকবেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও এধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ‘ভয়েস অফ গ্লোবাল সাউথ’ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়া দিল্লি।
কূটনৈতিক মহলের মতে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর হলে তা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে এবং দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার পথ খুলে দিতে পারে।