
নয়া দিল্লি: দেশের মূল শক্তি যুবরাই। সবক্ষেত্রে ভারতকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিচ্ছেন তাঁরা। শনিবার কর্নাটকের মহীশূরে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে আবারও যুবসমাজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। তিনি বলেন,”ভারতের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন থেকে শুরু করে স্টার্টআপ, ডিজিটাল প্রযুক্তি…সব ক্ষেত্রেই যে দ্রুত অগ্রগতি হচ্ছে, তার মূল শক্তি দেশের যুবসমাজ।”
প্রধানমন্ত্রী মোদী এদিন মহীশূরে স্বামী বিবেকানন্দ কালচারাল (Swami Vivekanada Cultural) ইউথ সেন্টার ‘বিবেক স্মারক’-এর উদ্বোধন করেন। সেখানে শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা, ও স্বামীজিকে শ্রদ্ধা জানান। মহীশূরের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল স্বামী বিবেকানন্দের, তা তুলে ধরেন। বলেন, “প্রায় ১৩০ বছর আগে এক তরুণ সন্ন্যাসী হিসেবে স্বামী বিবেকানন্দ মহীশূরে এসেছিলেন। তখন তাঁর খ্যাতি ততটা না থাকলেও তাঁর ভাবনা ছিল অসাধারণ। সেই সময় মহীশূরের তৎকালীন মহারাজা তাঁর প্রতিভা চিনতে পেরেছিলেন এবং পরবর্তীকালে আমেরিকা থেকে লেখা একটি চিঠিতে স্বামী বিবেকানন্দ নিজেও মহারাজার সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেছিলেন। রামকৃষ্ণ আশ্রম এবং স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতি মহীশূরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ‘বিবেক স্মারক’-এর উদ্বোধনের মাধ্যমে সেই আদর্শকে আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।” তিনি এই উদ্যোগের জন্য রামকৃষ্ণ আশ্রম এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানান।
দেশসেবায় স্বামীজির আদর্শকেও তুলে ধরেন বক্তব্যে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ছিল ‘শিব জ্ঞানে জীব সেবা’। অর্থাৎ মানুষের সেবাই ঈশ্বরের সেবা। এই স্মারকে এমন যুবসমাজ গড়ে তুলতে হবে, যাদের কাছে সমাজ ও দেশের স্বার্থই সবার আগে থাকবে। দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের সেবাই হবে জীবনের লক্ষ্য।”
যুবসমাজের প্রশংসা করে মোদী বলেন, “আজ ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম। ভারত এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী দেশ। ভারতের তৈরি ডিজিটাল সলিউশন বিশ্বের বহু দেশের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। এই সমস্ত কৃতিত্বই দেশের যুবশক্তির।”
তিনি আরও বলেন,”একসময় ভারতের যুবসমাজ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল। কিন্তু আজ সেই যুবকরাই বিশ্বের উন্নয়নের গতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। স্বামী বিবেকানন্দ যুবসমাজের শিক্ষাকেই জাতি গঠনের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে দেখতেন।”