
নয়াদিল্লি: ২০১৩ সাল। তখনও তিনি প্রধানমন্ত্রী হননি। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। এসেছিলেন এই কলেজে। ১৩ বছর পর শনিবার নয়াদিল্লির সেই শ্রীরাম কলেজ অব কমার্সে (SRCC) এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কলেজের শতবর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানে এসে তিনি ১৩ বছর আগের স্মৃতিতে ডুব দিলেন। ২০১৩ সালের সেই ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন অনেকেই আশা করেছিলেন যে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলবেন। কিন্তু তিনি সেই মঞ্চকে সেভাবে ব্যবহার করেননি। তাঁর কথায়, “আমি একটি ভিশন তুলে ধরেছিলাম। ইতিবাচক কথাই বলেছিলাম।”
কী বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী?
SRCC-র শতবর্ষ উদযাপন নিয়ে মোদী বলেন, “আজকের দিনটি শ্রীরাম কলেজ অব কমার্সের জন্য ঐতিহাসিক। SRCC-এর এই অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আপনাদের সকলকে অনেক ধন্যবাদ। কোনও প্রতিষ্ঠান যখন ১০০ বছরে পা দেয়, তখন তা হয়ে ওঠে সাফল্য ও অনুপ্রেরণার এক মহাসমুদ্র। ১০০ বছরের এই যাত্রায় SRCC প্রজন্মের পর প্রজন্মকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর যাত্রা শুরু হয়েছিল দরিয়াগঞ্জের একটি ছোট জায়গা থেকে। আর এখন তা এমন এক বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়েছে, যা বহু প্রজন্মকে ছায়া দিয়েছে। SRCC-এর সঙ্গে যুক্ত মানুষজন প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাফল্যের ছাপ রেখেছেন। ধুরন্ধর না হলেও, ধূম তো মচিয়েছেন।”
এর আগে ২০১৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি SRCC কলেজে পড়ুয়াদের উদ্দেশে বক্তব্য রেখেছিলেন মোদী। সেই সময় তিনি ছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী। সাড়ে ১৩ বছর পর ফের তিনি এই কলেজে যুবসমাজের মুখোমুখি হলেন। ২০১৩ সালের সেই ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে অর্ধেক জলভর্তি গ্লাসের উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেটি ছিল এমন এক সময়, যখন চারদিকে হতাশার পরিবেশ ছিল। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, তিনি গ্লাসটিকে ভরা অবস্থাতেই দেখেন—অর্ধেক জল দিয়ে এবং অর্ধেক বাতাস দিয়ে। যুবসমাজকে তিনি ২০১৩ সালের সেই সময়ের সংবাদপত্রের শিরোনামগুলি দেখতে বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় জঙ্গিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল এবং পাকিস্তানও বেপরোয়া আচরণ করছিল। চারদিকে হতাশা ও নিরাশা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। এখন সন্ত্রাসবাদ ছড়ানো শক্তিগুলি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। পাকিস্তান কোনও ব্যর্থ হামলা চালালে ভারতীয় সেনা ঘরে ঢুকে জবাব দেয়। জম্মু-কাশ্মীর থেকে উত্তর-পূর্ব ভারত পর্যন্ত শান্তি বেড়েছে। নকশালবাদের কোমর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যে বিশ্ব একসময় ভারতকে নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল, আজ সেই বিশ্বই ভারতকে নিয়ে আলোচনা করছে। ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির হার দেশকে আরও উদ্দীপ্ত করেছে। তিনি আরও বলেন, “যাঁদের কাছে ২০১৩ সালে গ্লাসের অর্ধেকটা খালি ছিল, আজও তাঁদের চিন্তাভাবনা বদলায়নি। আজও তাঁদের ভাবনা সেই একই রকম।”
শ্রী রাম কলেজ অব কমার্স দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত এবং ভারতের উচ্চশিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কমার্স, অর্থনীতি ও ম্যানেজমেন্ট শিক্ষার ক্ষেত্রে এটি একটি বিশেষ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবী স্যার শ্রী রাম ১৯২৬ সালে এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। গত এক শতাব্দীতে এই কলেজ বহু প্রজন্মের শিক্ষাবিদ, পেশাদার, প্রশাসক, উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক এবং দেশ গঠনের সঙ্গে যুক্ত মানুষ তৈরি করেছে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কলেজের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাসভবনে কলেজের গভর্নিং বডি এবং একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সেই সময় তিনি একটি বিশেষ ডাকটিকিটও প্রকাশ করেছিলেন।