SEMICON India 2026: সেমিকন্ডাক্টর সেক্টরে নতুন যুগ…, ১৭ সেপ্টেম্বর সেমিকন ইন্ডিয়ার সূচনা করবেন মোদী

India Semiconductor Chip Projects: সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬ শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, ভারতের সেমিকন্ডাক্টর পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তারও বড় মঞ্চ। নীতি থেকে কারখানা, চিপ ডিজাইন এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন—ভারতের এই যাত্রা এখন কতটা এগিয়েছে, ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে তারই ছবি স্পষ্ট হবে।

SEMICON India 2026: সেমিকন্ডাক্টর সেক্টরে নতুন যুগ..., ১৭ সেপ্টেম্বর সেমিকন ইন্ডিয়ার সূচনা করবেন মোদী
আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬-র সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

Sep 15, 2026 | 4:49 PM

নয়াদিল্লি: ভারতের সেমিকন্ডাক্টর সেক্টরে বড় পদক্ষেপ। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিল্লির দ্বারকার যশোভূমিতে সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬ (SEMICON India 2026) সম্মেলনের সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিন দিনের এই ইভেন্টে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের চিপ নির্মাতা সংস্থা, নীতিনির্ধারক, স্টার্টআপ, বিনিয়োগকারী ও গবেষকরা অংশ নেবেন। এবারের সম্মেলনের থিম ‘সিলিকন টু সিস্টেমস: বিল্ডিং দ্য ইকোসিস্টেম’। অর্থাৎ শুধু চিপ তৈরির কারখানা নয়, চিপ ডিজাইন, ফ্যাব্রিকেশন, প্যাকেজিং, টেস্টিং, কাঁচামাল, গবেষণা এবং দক্ষ কর্মী তৈরির উপরও জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।

সেমিকন্ডাক্টরে কতটা এগোল ভারত?

২০২১ সালে সেমিকন ইন্ডিয়া প্রোগ্রাম চালু করে কেন্দ্র। বরাদ্দ ছিল ৭৬,০০০ কোটি টাকা। এরপর ২০২৬ সালের জুলাইয়ে Semicon 2.0-তে ১,২৭,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দে অনুমোদন করেছে কেন্দ্র। এখন পর্যন্ত ছয়টি রাজ্যে ১২টি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এই প্রকল্পগুলিতে মোট বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ১.৬৪ লক্ষ কোটি ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে তিনটি কারখানায় ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে।

ইলেকট্রনিক্সে বিপুল বৃদ্ধি-

সেমিকন্ডাক্টরের আগে দেশে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। ২০১৪-১৫ সালে ভারতের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন ছিল প্রায় ১.৯ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৩.১১ লক্ষ কোটি টাকা। ইলেকট্রনিক্স রফতানিও প্রায় ৩৮,০০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪.২৪ লক্ষ কোটি টাকা। মোবাইল ফোন উৎপাদন ১৮,০০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬.২৭ লক্ষ কোটি টাকা। মোবাইল রফতানি পৌঁছেছে ২.৫৯ লক্ষ কোটি টাকাতে। বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের ৯৯.২ শতাংশই ভারতে তৈরি হয়।

নজরে দক্ষ কর্মী-

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য এই দশকে ৮৫,০০০ দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে ভারত। ‘চিপস টু স্টার্টআপ প্রোগ্রাম’-র আওতায় ৩২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন (EDA) টুল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ৬৮,০০০-এর বেশি পড়ুয়া প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৭৫টি প্রতিষ্ঠান ২১১টি চিপের ডিজাইন ‘টেপ আউট’ করেছে। এর মধ্যে ১২ ন্যানোমিটার পর্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির ডিজাইনও রয়েছে। C-DAC-এর ChipIN Centre-এর মাধ্যমে ৫০০-র বেশি সংস্থার ১ লক্ষের বেশি ইঞ্জিনিয়ার এই পরিষেবা পাচ্ছেন।

সেমিকন ইন্ডিয়াতে কী থাকছে?

এবারের সম্মেলনে ৬০০-র বেশি এগজিবিটর অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০টি আন্তর্জাতিক সংস্থা। ১৫,০০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে হবে প্রদর্শনী। থাকছে ছয়টি দেশের প্যাভিলিয়ন, ১২টি রাজ্যের প্যাভিলিয়ন, স্টার্টআপ শোকেস, পড়ুয়াদের হ্যাকাথন এবং ওয়ার্কফোর্স ডেভেলপমেন্ট প্যাভিলিয়ন। বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নেবেন ১৫০-র বেশি বক্তা।

ইতিমধ্যেই প্যাক্স সিলিকা কোয়ালিশনে যোগ দিয়েছে ভারত। নিরাপদ সেমিকন্ডাক্টর ও AI সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ এই জোট। ফলে সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬ শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, ভারতের সেমিকন্ডাক্টর পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তারও বড় মঞ্চ। নীতি থেকে কারখানা, চিপ ডিজাইন এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন—ভারতের এই যাত্রা এখন কতটা এগিয়েছে, ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে তারই ছবি স্পষ্ট হবে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us