
ভোপাল: দুইদিনের ছুটির আবেদন করেছিলেন। ডিউটি শেষে বেরিয়েওছিলেন থানা থেকে। কিন্তু আর বাড়ি ফেরেননি পুলিশ কনস্টেবল। রাত পেরিয়েও বাড়ি না আসায়, থানায় ছুটলেন পরিবারের লোকজন। দায়ের হল নিখোঁজ ডায়েরি। কোথায় গেলেন, সেই চিন্তায় যখন সবার ঘুম উড়েছে, তখনই কনস্টেবলের স্ত্রীর ফোনে এল সেই ভয়ঙ্কর ফোন। ওপ্রান্ত থেকে ভারী গলায় বলা হল, অপহরণ করা হয়েছে তাঁর স্বামীকে। প্রাণে বাঁচাতে চাইলে ৪০ লাখ টাকা নিয়ে আসতে হবে রাজস্থানে। মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করছেন স্ত্রী, এমন সময়ই যা জানতে পারলেন, তাতে মাথায় আগুন জ্বলে উঠল। পুলিশ জানাল, অন্য কেউ নয়, তাঁর স্বামী নিজেই নিজেকে অপহরণ করিয়েছেন!
মধ্য প্রদেশের মোরেনা জেলায় ঘটনাটি ঘটেছে। সবলগড়ের নিরার থানার কনস্টেবল শিবশঙ্কর রাওয়াত। চলতি সপ্তাহেই তিনি দুদিনের ছুটির আবেদন করেন। এরপর থানা থেকে বের হন। কিন্তু আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। রাত পেরিয়ে গেলেও কনস্টেবল বাড়ি না ফেরায় চিন্তায় পড়ে যান তাঁর স্ত্রী। বুধবার ভোর ৫টা নাগাদ হঠাৎ তাঁর কাছে ফোন আসে। ওপ্রান্ত থেকে এক পুরুষ কণ্ঠ জানায়, তার স্বামীকে অপহরণ করা হয়েছে। মুক্তিপণ বাবদ ৪০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। টাকা নিয়ে রাজস্থানে আসতে হবে।
স্বামীর অপহরণের কথা শুনেই থানায় ছোটেন স্ত্রী। পুলিশ তদন্ত শুরু করে। যে নম্বর থেকে ফোন এসেছিল, তা ট্রেসিং শুরু হয়। ওই নম্বর ট্রেস করেই জানা যায়, রাজস্থানের করৌলি থেকে ফোন এসেছিল। সেখানে গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ওই কনস্টেবলকে। তাঁর সঙ্গে এক যুবককেও আটক করা হয়। কিন্তু দেখা যায়, বহাল তবিয়তেই ছিলেন ওই কনস্টেবল। জেরা করে জানা যায়, ওই ব্যক্তি নিজেই নিজেকে অপহরণ করিয়েছিলেন। স্ত্রীর থেকে ৪০ লক্ষ টাকা আদায় করতেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। তাঁকে সাহায্য করেছিলেন যে যুবক, তাঁর নাম যোগেন্দ্র যাদব। তিনি আবার সবলগড়ের বিধায়কের ভাগ্নে। দুইজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।