
সাদা কাগজে সই করিয়ে নিলেই নাকি সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়া যায়! বেহাত হয়ে যায় সব কিছু। এই ধারণা রয়েছে অনেকের। এটা কি সত্যি? আইন কী বলে? এই ব্যাখ্যা সকলের জেনে রাখা দরকার।
আইন বলে, সাদা কাগজে বা ফাঁকা স্ট্যাম্প পেপারে সই করিয়ে নিলেই আইনত কেউ কারোর সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিতে পারে না। আইনের দৃষ্টিতে এই ধরনের সই সম্পূর্ণ অবৈধ। এই ধরনের নথি দিয়ে স্বত্ব বা মালিকানা হস্তান্তর (Ownership Transfer) করা যায় না। তবে সাদা কাগজে সই করে দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ প্রতারক চক্র এই সই অপব্যবহার করে নানা অপরাধমূলক কাজ করতে পারে।
স্থাবর সম্পত্তি (জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাট) কেনাবেচা, দান (Gift) বা হস্তান্তর করার জন্য রেজিস্ট্রেশন আইনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্দিষ্ট অঙ্কের সরকারি স্ট্যাম্প পেপারে একটি বৈধ দলিল (Deed) তৈরি করতে হয় সম্পত্তি কেনা-বেচার জন্য। সেই দলিলটি সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে (Sub-Registrar Office) উপস্থিত হয়ে সরকারি খাতায় নথিভুক্ত (Registration) করা বাধ্যতামূলক।
সম্পত্তি হস্তান্তরের সময় ক্রেতা ও বিক্রেতা-উভয়কেই সশরীরে হাজির থাকতে হয় এবং রেজিস্ট্রি অফিসে সরকারি কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের সামনে ছবি, আঙুলের ছাপ (Biometric) ও স্বাক্ষর করতে হয়। অন্যদিকে, চুক্তি আইনের (Contract Act) মূল শর্ত হল, ব্যক্তির পূর্ণ সম্মতি। কোনও কাগজে জোর করে বা প্রতারণা করে ফাঁকা কাগজে সই করিয়ে নিলে আইনত সেটিকে ‘সম্মতি’ বলে ধরা হয় না।
সই করলেই আইনত সম্পত্তি হস্তান্তর হয় না, তবুও প্রতারকরা এর সুযোগ নিয়ে অনেক ক্ষতি করতে পারে।
ভুয়া চুক্তিপত্র তৈরি (Agreement for Sale): ফাঁকা কাগজে বা স্ট্যাম্পে সই ব্যবহার করে প্রতারক বলতে পারে যে আপনি সম্পত্তি বিক্রির জন্য অগ্রিম টাকা (Earnest Money) নিয়েছেন।
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি জালিয়াতি: কোনও ব্যক্তির সই নকল করে, পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ওপর বসিয়ে ওই ব্যক্তির অজান্তেই সম্পত্তি সংক্রান্ত ক্ষমতা নেওয়ার মতো চক্রান্ত করতে পারে প্রতারকরা।
ভুয়ো ঋণের কাগজ: সাদা কাগজের সইকে প্রমিসরি নোট (Promissory Note) বা ঋণের রসিদে রূপান্তর করে দেওয়ানি মামলা ঠুকে দিতে পারে প্রতারকরা।
যদি কখনও ভুলবশত বা বাধ্য হয়ে সাদা কাগজ বা ফাঁকা স্ট্যাম্প পেপারে কেউ সই করে ফেলেন, তবে অবিলম্বে এই আইনি পদক্ষেপগুলি করা উচিত-
জেনারেল ডায়েরি (GD) ও এফআইআর (FIR): সাদা কাগজে সই করিয়ে নিলে, নিকটবর্তী থানায় সঙ্গে সঙ্গে লিখিত জিডি বা এফআইআর দায়ের করা উচিত। অভিযোগপত্রে স্পষ্ট লিখুন যে আপনার কাছ থেকে জোরপূর্বক বা প্রতারণা করে ফাঁকা কাগজে/স্ট্যাম্পে সই নেওয়া হয়েছে।
আইনি নোটিস (Legal Notice): একজন অভিজ্ঞ দেওয়ানি (Civil) আইনজীবীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা পক্ষকে আইনি নোটিস পাঠিয়ে জানাতে পারেন যে ওই সই বাতিল ও অবৈধ।
রেজিস্ট্রি অফিসে জানান: স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে লিখিত আবেদন জমা দিয়ে জানান যে আপনার নামে বা ওই সম্পত্তির ওপর কোনও দলিল আপনার অনুপস্থিতিতে যেন রেজিস্ট্রি না করা হয়।