
মুম্বই: গোটা দেশের চর্চার কেন্দ্রবিন্দু এখন পুণের হত্যাকাণ্ড। মাত্র ২০ বছর বয়সী সিয়া গোয়েল ঠান্ডা মাথায় প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে প্ল্যান করে খুন করেছিল পুণের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে। সেই খুনকে তারা দুর্ঘটনা বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিল। তবে পুলিশের কাছে ধরা পড়ে যায় তারা। এবার পুণের হত্যাকাণ্ডে নয়া মোড়। দুই মূল অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরীই এখন একে অপরের উপরে দোষ চাপাচ্ছে!
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দুই অভিযুক্তই এই হত্যাকাণ্ডে নিজেদের ভূমিকা কমানোর চেষ্টা করছে। একে অপরের উপরে দোষ চাপাচ্ছে। দুজনে আলাদাভাবে পুলিশের কাছে যে বয়ান দিয়েছে, তা মিলছে না। চেতন পুলিশকে জানিয়েছে, সিয়াকে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিল সে, কিন্তু সিয়াই জোর করেছিল যে কেতনকে মেরে ফেলা হোক। অন্যদিকে সিয়া বয়ানে জানিয়েছে, কেতনকে খুন করার প্ল্যান চেতনই করেছিল। এমনকী, ১৪ জুন যখন কেতনকে ধাক্কা মেরে ফেলা দেওয়ার ব্যর্থ হয়, তখন চেতন দুঃখে কেঁদেওছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লোহাগড় দুর্গে নিয়ে গিয়ে কেতনকে খুন করার প্ল্যান একটি ক্যাফেতে বসে ফেঁদেছিল সিয়া ও চেতন। লোহাগড় দুর্গের ইউটিউবের ভিডিয়োও দেখিয়েছিল নিখুঁত প্ল্যান করতে। ক্যাফের সিসিটিভিতে দুজনকে দেখা গিয়েছে।
দু’জনে মিলে আগে দুর্গ ঘুরে দেখে এসেছিল যে কোথা থেকে কেতনকে ধাক্কা মেরে ফেলা হবে। দুই মাস ধরে তারা এই প্ল্যান করেছিল। প্রায় ২০০০ বারের বেশি ফোনে কথা বলেছিল।
লোহাগড় দুর্গ থেকে কখন কেতনকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হবে, তার জন্য দুইজন মিলে সিগন্যাল ঠিক করেছিল। ঘটনার দিন, ১৮ জুন সিয়া কেতনকে নিয়ে লোহাগড় দুর্গে গিয়েছিল ট্রেকিংয়ের জন্য। তাঁর জন্মদিন সেলিব্রেট করতেই এই ট্রেকিংয়ের বাহানা করেছিল। তাদের পিছু পিছুই হুডি পরে, দুর্গের চূড়ায় পৌঁছেছিল চেতনও।
প্ল্যান মাফিক সিয়া যখন নিচু হয়ে মাটিতে বসে, তখন চেতন এসে কেতনকে ধাক্কা মেরে খাদে ফেলে দেয়। এরপরে ৫০ মিনিটের মধ্যেই চেতন নেমে আসে। কেতনকে খাদ থেকে উদ্ধারের পর নিরাপত্তারক্ষীরা যখন বলেছিল, সে এখনও বেঁচে আছে, সে কথা শুনে কার্যত ভয় পেয়ে গিয়েছিল সিয়া।