
অমৃতসর: একের পর এক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ। শিক্ষা থেকে পুরসভার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। প্রায় রোজই নিত্য নতুন তথ্য বেরিয়ে আসেছে। এরই মধ্যে নিয়োগের পরীক্ষার সময় প্রতারণার এক অদ্ভুত ঘটনা সামনে এল। প্যারামেডিক্যাল স্টাফ নিয়োগের পরীক্ষায় প্রেমিকার হয়ে লিখিত পরীক্ষা দিতে এসে হাতে নাতে ধরা পড়ে গেলেন এক ২৫ বছরের যুবক। হাতে লাল চুড়ি, কপালে টিপ, ঠোঁটে লিপস্টিক এবং পরনে মহিলাদের পোশাক – প্রেমিকার ছদ্মবেশ নিতে কিছু বাদ রাখেনি সে। কিন্তু, তারপরও বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিকদের চোখকে ফাঁকি দিতে পারেননি তিনি। এর জেরে, পুলিশ ওই যুবকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। আর তার প্রেমিকার জমা দেওয়া আবেদনটি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্জাবের ফরিদকোট জেলায়।
ঘটনাটি ঘটে গত সপ্তাহের মঙ্গলবার। ওইদিন জেলার কোটাকপুরা ডিএভি স্কুলে, বাবা ফরিদ ইউনিভার্সিটি ফর হেলথ সায়েন্সেসের, প্যারামেডিক্যাল স্টাফ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা ছিল। এই পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন জনৈক পরমজিৎ কওর। কিন্তু, পরীক্ষায় পাশ করার বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন না পরমজিৎ। সহায় হয়েছিলেন তাঁর প্রেমিক আংরেজ সিং। দুজনে মিলে ঠিক করেন, পরমজিতের ছদ্মবেশে আংরেজ সিং যাবে পরীক্ষা দিতে। এরপরই লাল চুড়ি, টিপ, লিপস্টিক এবং মহিলাদের পোশাকে সজ্জিত হয়ে কোটাকপুরা ডিএভি স্কুলে পরীক্ষা দিতে এসেছিল আংরেজ সিং।
নিজের মহিলা অবতারের ছবি তুলে, সেই ছবি দিয়ে পরমজিৎ কওরের নামে জাল ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ড তৈরি করিয়েছিল সে
শুধু ছদ্মবেশই নয়, প্রেমিকাকে পরীক্ষায় পাশ করাতে সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছিল আংরেজ সিং। নিজের মহিলা অবতারের ছবি তুলে, সেই ছবি দিয়ে পরমজিৎ কওরের নামে জাল ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ড তৈরি করিয়েছিলেন। পরীক্ষা হলে সেই ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রাথমিকভাবে নিজেকে পরমজিৎ কওর বলে প্রমাণও করেছিলেন। কিন্তু, সমস্যা হয় বায়োমেট্রিক ডিভাইসে আঙুলের ছাপ দিতে গিয়ে। পরমজিতের আঙুলের ছাপ তো আর আংরেজ সিংয়ের আঙুলে আসা সম্ভব নয়।
সন্দেহ হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় পুলিশে। তারা এসে আংরেজ সিংয়ের কাছ থেকে ওই ভুয়ো ভোটার আই কার্ড এবং আধার কার্ড বাজেয়াপ্ত করে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলাও করেছে পুলিশ। দুর্ভাগ্যবশত, প্রকৃত প্রার্থী পরমজিৎ কওরের পরীক্ষার আবেদনটি বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. রাজীব সুদ বলেছেন, প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিয়েছিলেন প্রকৃত প্রার্থীই। কিুন্তু, দ্বিতীয় পরীক্ষার পত্রের পরীক্ষার বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের সময় ধরা পড়ে যে তিনি তাঁর বদলে তাঁর প্রেমিক আংরেদ সিংকে মহিলা সাজিয়ে পাঠিয়েছেন। বাবা ফরিদ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে ৮০৬টি পদের নিয়োগ করা হবে। এর জন্য প্রায় ৭,২০০ পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন। প্রতিযোগিতা কতটা কড়া, তা এই তথ্য থেকেই স্পষ্ট।