
নয়া দিল্লি: প্রাচীন হিন্দু গ্রন্থ ঋগ্বেদ। এটা কি শুধুই ধর্ম ও দর্শনের বিভিন্ন স্তোত্র এবং শ্লোকের সংকলন? এতদিন তাই মনে করা হত। কিন্তু, সাম্প্রতিক এক গবেষণার পর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, না, এতে শুধু ধর্ম ও দর্শনের কতা বলা নেই। এই প্রাচীন গ্রন্থে রয়েছে, সুপ্রাচীন কালের মহাজাগতিক ঘটনাবলীর রেকর্ডও। বস্তুত, বিশ্বের ইতিহাসে সবথেকে পুরোনো সূর্যগ্রহণের তথ্যসূত্র রয়েছে এই হিন্দু গ্রন্থেই। এমনটাই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
মনে করা হয় ঋগ্বেদ মোটামুটিভাবে সংকলিত হয়েছিল ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। প্রাথমিকভাবে এর আলোচ্য বিষয় আধ্যাত্মিক। তবে, এতে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাগুলিরও উল্লেখ রয়েছে। তার মধ্যে বেশ কিছু, এটি সংকলনের কয়েক শতাব্দী আগেরও। সেই রকমই একটি প্রাচীন সূর্যগ্রহণের কথাও নথিবদ্ধ আছে এই গ্রন্থে, এমনটাই দাবি মুম্বইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মায়াঙ্ক ভাহিয়া এবং জাপানের ন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরির মিৎসুরু সোমার। তাঁদের মতে, প্রায় ৬০০০ বছর আগের এক সূর্যগ্রহণের কথা রয়েছে ঋগ্বেদে।
এই দুই বিজ্ঞানী ঋগ্বেদ পড়তে গিয়ে কয়েকটি বিশেষ অনুচ্ছেদ পেয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, সূর্যকে “বিদ্ধ” করেছে অন্ধকার এবং এর “জাদুবিদ্যা” অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। হিন্দু পৌরাণিক কাহিনীগুলিতে সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণকে রাহু এবং কেতুর গ্রাস হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। কিন্তু, ঋগ্বেদ সংকলিত হয়েছিল রাহু এবং কেতুর কাহিনী তৈরির অনেক আগে। কাজেই, ঋগ্বেগে এই যে সূর্যর অন্ধকারে বিদ্ধ হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা বহু আগের এক সূর্যগ্রহণের বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এর থেকে স্পষ্ট, সেই সময় সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন সেই সময়ের হিন্দুরা।
কিন্তু, বিজ্ঞানীরা কীকরে জানলেন ওই সূর্যগ্রহণ ৬০০০ বথর আগেই হয়েছিল? ঋগ্বেদের ওই অনুচ্ছেদগুলিতে কালপুরুষে ঘটতে থাকা মহাবিষুবের উল্লেখ রয়েছে। আরও বলা হয়েছে, ওই গ্রহণ হয়েছিল শরৎকালীন বিষুবের তিন দিন আগে। এর থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সূর্যগ্রহণটির একটা সম্ভাব্য সময়সীমা পেয়েছিলেন। তবে, সূর্যগ্রহণ পৃথিবীর সব জায়গা থেকে সমানভাবে দেখা যায় না। কোথাও কোথাও হয় পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, কোথাও তা দেখা যায় আংশিকভাবে। কাজেই, ঋগ্বেদের রচয়িতাদের অবস্থান ধরে, সেখানে কবে কবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয়েছিল, তা বিবেচনা করেন বিজ্ঞানীরা।
এতে তারা দুটি তারিখ পেয়েছেন। প্রথমটি ৪২০২ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ২২ অক্টোবর, দ্বিতীয়টি ৩৮১১ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ১৯ অক্টোবর। এখনও পর্যন্ত সূর্যগ্রহণের প্রাচীনতম রেকর্ড হিসেবে ধরা হয় সিরিয়ার একটি মাটির টালি এবং আয়ারল্যান্ডের একটি শিলা খোদাইকে। সিরিয়ান টালিটিতে যে সূর্যগ্রহণের উল্লেখ ছিল, তা ছিল ১৩৭৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ বা ১২২৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দের। আর আইরিশ শিলা খোদাইটিতে যে সূর্যগ্রহণের কথা বলা আছে, তা ৩৩৪০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দের। মজার বিষয় হল, ঋগ্বেদের উল্লিখিত সূর্যগ্রহণের তারিখটি এই দুটি রেকর্ডের থেকেও পুরোনো বলেই দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা। এর থেকে বোঝা যায়, প্রাচীনকালে হিন্দু জনতা মহাজাগতিক ঘটনাবলী সম্পর্কে কতটা আগ্রহী ছিলেন। কতটা ঘনিষ্ঠভাবে এই ঘটনাগুলি পর্যবেক্ষণ করতেন তাঁরা।
আরও খবর পড়তে ডাউনলোড করুন Tv9 বাংলা অ্যাপ (Android/ iOs)