India-China: লাদাখ-অরুণাচল সীমান্তে পরপর যুদ্ধবিমান মোতায়েন চিনের, স্যাটালাইটে ধরা পড়ল ছবি, বাড়ছে উদ্বেগ

China deploys J-20: চিনের J-20 একটি ফিফথ জেনারেশন স্টেলথ যুদ্ধবিমান । বিশেষ নকশার কারণে এর রাডার সিগনেচার অত্যন্ত কম। ফলে শত্রুপক্ষের রাডারে সহজে ধরা পড়ে না। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার রাফাল, সুখোই-৩০ এমকেআই, মিরাজ-২০০০ বা মিগ-২৯-এর মতো চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের তুলনায় J-20 এগিয়ে বলে মনে করা হয়।

India-China: লাদাখ-অরুণাচল সীমান্তে পরপর যুদ্ধবিমান মোতায়েন চিনের, স্যাটালাইটে ধরা পড়ল ছবি, বাড়ছে উদ্বেগ
প্রতীকী ছবিImage Credit source: Meta AI

Jul 28, 2026 | 7:30 AM

নয়া দিল্লি: ভারতের সীমান্তে যুদ্ধবিমান মোতায়েন বাড়াচ্ছে চিন। উত্তর সীমান্ত অর্থাৎ লাদাখ এবং অরুণাচল সীমান্তের একেবারে গা ঘেঁষে বিমানঘাঁটিগুলিতে পরপর দাঁড়িয়ে রয়েছে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। মূলত, J-20 ‘মাইটি ড্রাগন’ স্টেলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। সম্প্রতি স্যাটেলাইট ছবিতে সেরকমটাই দেখা গেল। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাাধ্যমের রিপোর্টে এই দাবি করা হয়েছে।

সীমান্তে মোতায়েন চিনা যুদ্ধবিমান

ভারতের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে,চলতি বছরের জুনের শেষ এবং জুলাইয়ের শুরুতে অন্তত ১১টি J-20 যুদ্ধবিমান দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে, ভ্যান্টর-এর স্যাটেলাইট ইমেজে ধরা পড়েছে দু’টি ছবি। স্যাটেলাইট ইমেজ অনুয়ায়ূ, ৯ জুলাই শিনজিয়াংয়ের হোটান (Hotan) বিমানঘাঁটিতে একসঙ্গে ৭টি J-20 যুদ্ধবিমান রাখা ছিল। এটি ভারতীয় সীমান্তের খুব কাছেই অবস্থিত। লেহ থেকে প্রায় ৩৮৯ কিলোমিটার এবং ভারতীয় বায়ুসেনার দৌলত বেগ ওল্ডি (DBO) এয়ারস্ট্রিপ থেকে মাত্র ২৪৫ কিলোমিটার দূরে এই বিমানঘাঁটি। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের বিরুদ্ধে চিনের কোনও বিমানঘাঁটিতে একসঙ্গে এত সংখ্যক J-20 মোতায়েনের ঘটনা এই প্রথম।

এছাড়াও, তিব্বতের ডামশুং (Damxung) বিমানঘাঁটিতে আরও ৪টি J-20 দেখা গিয়েছে। এই ঘাঁটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং থেকে প্রায় ৩৪৪ কিলোমিটার দূরে।

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা নিউস্পেস (NewSpace)-এর সিইও সমীর যোশী জানান, উচ্চভূমির ঘাঁটি থেকে স্টেলথ যুদ্ধবিমান পরিচালনা এখন পিএলএএএফ (PLAAF)-এর কাছে নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর মতে, ভারতীয় বায়ুসেনার সামনে এখন উত্তর সীমান্তে স্টেলথ যুদ্ধবিমানের হুমকি বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। তাই কাউন্টার-স্টেলথ সেন্সর, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং হামলার সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো জরুরি। যদিও এই বিষয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়বু।

কেন গুরুত্বপূর্ণ J-20?

চিনের J-20 একটি ফিফথ জেনারেশন স্টেলথ যুদ্ধবিমান । বিশেষ নকশার কারণে এর রাডার সিগনেচার অত্যন্ত কম। ফলে শত্রুপক্ষের রাডারে সহজে ধরা পড়ে না। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার রাফাল, সুখোই-৩০ এমকেআই, মিরাজ-২০০০ বা মিগ-২৯-এর মতো চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের তুলনায় J-20 এগিয়ে বলে মনে করা হয়।

ভারতের নিজস্ব স্টেলথ যুদ্ধবিমান অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (AMCA) নিয়ে এখনও কাজ চলছে। সবটাই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে অন্তত আরও এক দশক পরে তা ভারতীয় বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

দ্রুত বাড়ছে চিনের J-20 বহর

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৯ সালে যেখানে চিনের হাতে প্রায় ৫০টি J-20 ছিল, ২০২২ সালের শেষে তা বেড়ে হয় প্রায় ২০০। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বছরে প্রায় ১২০টি J-20 উৎপাদনের ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, চিনের হাতে ৩০০ থেকে ৫০০টি J-20 রয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

ভারতের বর্তমান অবস্থান

বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে রয়েছে ৩৬টি রাফাল, যা দু’টি স্কোয়াড্রনে মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ২৬টি রাফাল অর্ডার করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য আরও ১১৪টি রাফাল কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়াও ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে রয়েছে ২৬০টিরও বেশি সুখোই-৩০ এমকেআই, পাশাপাশি মিরাজ-২০০০ এবং মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানও এখনও পরিষেবায় রয়েছে।

 

Follow Us