Indira Jaising:’মহিলা বিচারকরাও যৌন হেনস্থার শিকার হচ্ছেন’, আইটেম ডান্সের উদাহরণ তুলে ভয়ঙ্কর অভিযোগ তুললেন আইনজীবী

Indira Jaising on Women Judges Physical Harassment: জয়সিং বলেন,"ওই একই মহিলা বিচারক আমাকে জানিয়েছিলেন, এক বিচারক তাঁকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন। ওই বিচারক তাঁকে বলেছিলেন,'আমার ২৫তম বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এস এবং একটি আইটেম নম্বরে নাচ।' তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। আর তার জন্য তাঁকে চাকরি হারাতে হয়েছিল।" তবে, ইন্দিরা জয়সিংয়ের আশা, ২০৪৭ সালের মধ্যে এই ধরনের 'লজ্জাজনক' ঘটনার অবসান হবে।

Indira Jaising:মহিলা বিচারকরাও যৌন হেনস্থার শিকার হচ্ছেন, আইটেম ডান্সের উদাহরণ তুলে ভয়ঙ্কর অভিযোগ তুললেন আইনজীবী
ইন্দিরা জয়সিংImage Credit source: Tv9 Bangla

Sep 01, 2026 | 1:42 PM

নয়া দিল্লি: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘যৌন হেনস্থার’ শিকার হচ্ছেন মহিলারা। কিছু ঘটনা সামনে আসে, কিছু আড়ালেই থেকে যায়। কিন্তু,ধর্ষণ, যৌন হেনস্থার মতো অভিযোগ তুলে বিচারের আশায় যে বিচারব্যবস্থার দ্বারস্থ হচ্ছেন মহিলারা, সেই বিচারব্যবস্থাতেই নিরাপদ নন মহিলা বিচারকরা? সম্প্রতি,মহিলা বিচারকদের যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং (Indira Jaising)। শুধু তাই নয়, ‘যৌন হেনস্থা ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ডার্টি সিক্রেট’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

‘যৌন হেনস্থা ভারতের বিচারব্যবস্থার ডার্টি সিক্রেট’

২৯তম ডি এস বোরকর স্মারক বক্তৃতায় ‘My Vision of India: 2047 A.D’ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ইন্দিরা জয়সিং। তাঁর দাবি, পুরুষ সহকর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে বহু মহিলা বিচারক তাঁর কাছে এসেছেন। এই কারণেই তিনি নিজের বইয়ে যৌন হেনস্থাকে ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ‘ডার্টি সিক্রেট’ বলে উল্লেখ করেছেন। আইনজীবী বলেন, “আমার পেশাগত জীবনে বহু মহিলা বিচারকের সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে। অনেক মহিলা বিচারকের হয়ে আমি মামলা লড়েছি। তাঁরা পুরুষ বিচারকদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে এসেছেন। সেই কারণেই আমি আমার বইয়ে লিখেছিলাম, যৌন হেনস্থা ভারতের বিচারব্যবস্থার ‘ডার্টি সিক্রেট’। কেউ এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চান না।”

এক মহিলা বিচারকের হয়ে মামলা লড়ার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন জয়সিং। তিনি বলেন, “আমি যে মহিলা বিচারকের হয়ে মামলা লড়ছিলাম, তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন, হাইকোর্টের কোনও বিচারপতি অবসর নিলে মহিলা জেলা আদালতের বিচারকদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াতে বলা হয়। তাঁদের একই রঙের শাড়ি পরতে হয় এবং পুরুষ বিচারকরা ডাইনিং রুমে প্রবেশের সময় তাঁদের উপর ফুল ছড়াতে হয়। উচ্চতর বিচারব্যবস্থায় এই ধরনের প্রথা রয়েছে।” এই ধরনের প্রথার নিন্দা করে ইন্দিরা জয়সিং বলেন,”হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা জেলা আদালতের বিচারকদের কাছ থেকে এই ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করেন। এর ভয়াবহ পরিণতি হয়, বিশেষ করে মহিলা বিচারকদের ক্ষেত্রে।”

‘আইটেম নম্বরে নাচতে হবে’

এরপর ওই মহিলা বিচারকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন হেনস্থার অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে জয়সিং বলেন,”ওই একই মহিলা বিচারক আমাকে জানিয়েছিলেন, এক বিচারক তাঁকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন। ওই বিচারক তাঁকে বলেছিলেন,’আমার ২৫তম বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এস এবং একটি আইটেম নম্বরে নাচ।’ তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। আর তার জন্য তাঁকে চাকরি হারাতে হয়েছিল।” তবে, ইন্দিরা জয়সিংয়ের আশা, ২০৪৭ সালের মধ্যে এই ধরনের ‘লজ্জাজনক’ ঘটনার অবসান হবে।

জয়সিংয়ের আগে ওই অনুষ্ঠানে একই বিষয়ে বক্তব্য রাখেন বর্ষীয়ান আইনজীবী ড.এস মুরলীধর। বিচারব্যবস্থায় মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব থেকে শুরু করে পড়ুয়াদের আন্দোলন, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি। বিচারব্যবস্থায় প্রচলিত পদমর্যাদাভিত্তিক সংস্কৃতিরও সমালোচনা করেন মুরলীধর। তিনি বলেন, “সিনিয়র পুরুষ সহকর্মীদের কাছ থেকে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য এবং যৌন হেনস্থার কারণে মহিলা বিচারকরা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ছে। এই ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে।”

মুরলীধরের বক্তব্যের সঙ্গে সামগ্রিকভাবে সহমত পোষণ করলেও আদালতের অধিকাংশ সময় কোথায় ব্যয় হয়, সেই প্রশ্নে কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করেন জয়সিং। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মামলাকারীদের জন্য আদালতের যে সামান্য সময় পাওয়ার কথা, তার অধিকাংশই ‘ধনী এবং কর্পোরেট জগৎ’ ব্যবহার করে নেয়।

বক্তৃতার শেষে একটি প্রশ্নের উত্তরও দেন জয়সিং। তাঁর কথায়,জেন-জি বা নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা তাঁকে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি করেন তা হল, পরিস্থিতি যে ভবিষ্যতে আরও ভাল হবে, সেই আশা তিনি কোথা থেকে পান? জবাবে জয়সিং বলেন, ভারতের সংবিধানই তাঁকে সেই আশা জোগায়। তিনি বলেন, “নাগরিক হিসেবে আমরা যতদিন ভারতের সংবিধান পরিবর্তন করা থেকে শাসক দলকে আটকাতে পারব, ততদিন আশা রয়েছে। কারণ ভারতের সংবিধান বর্তমান রূপে যতদিন থাকবে, সরকারের এমন কোনও সংবিধান-বহির্ভূত পদক্ষেপ নেই, যাকে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us