
নয়া দিল্লি: “আমি এ কথা বলতে চাই না, কিন্তু সোনম ওয়াংচুক মৃত্যুশয্যায়”- বৃহস্পতিবার এই বার্তাই দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে (Abhijit Dipke)। ২০ দিন ধরে অনশন করছেন বিজ্ঞানী তথা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। যতদিন না তাঁদের দাবি পূরণ হবে, ততদিন অবধি অনশন চালিয়ে যাবেন বলেই জানিয়েছেন সোনম। তবে চিকিৎসকরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সোনমের স্বাস্থ্য নিয়ে। অনশন চালিয়ে গেলে, এবার তাঁর শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গই কুড়ে কুড়ে খেয়ে নিতে শুরু করছে দেহ। এতটাই অবস্থা খারাপ যে কোনও সাহায্য ছাড়া উঠে দাঁড়াতে বা চলতে পারছেন না, তাঁকে ধরে শৌচাগারে নিয়ে যাওয়ার সময়ও দুইবার প্রায় পড়ে যান।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সোনম ওয়াংচুকের যে ছবিগুলি সামনে এসেছে, তাতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে তাঁর শরীরের হাড়। অর্থাৎ মাসল বা পেশি ক্ষয় হচ্ছে সোনমের। ২৮ জুন অনশন শুরু করেছেন সোনম। এখনও পর্যন্ত ৯ কেজি ওজন কমে, ৫৬ কেজিতে ওজন পৌঁছেছে। এত কিছুর পরও সোনম তাঁর অনশন ভাঙতে রাজি নয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, সোনমের পরিস্থিতি ক্রিটিকাল। যদি এখনও অনশন চালিয়ে যান, তাহলে তাঁর অঙ্গ প্রতঙ্গে প্রভাব পড়তে শুরু করবে। মাল্টি ওর্গান ফেলিওরের আশঙ্কাও থাকছে। ডঃ সতীশ লাম্বা, যিনি সোনমের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখছেন, নিয়মিত চেক-আপ করছেন, তিনি জানিয়েছেন, এভাবে অনশন চলতে থাকলে, শরীরের গ্লুকোজ রিজার্ভ-ও শেষ হয়ে যাবে। তারপর শরীর জমিয়ে রাখা ফ্যাট ও তারপরে পেশি ব্যবহার করতে শুরু করবে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। অর্থাৎ নিজের শরীরই খেতে থাকবে সোনমকে।
সোনম ওয়াংচুকের কিটোন লেভেল তিন পার করে গিয়েছিল। জল খাওয়ানোর পর তা কমে দুইয়ে নেমে আসে। ইউরিক অ্যাসিড অত্যন্ত বেশি। চিকিৎসকরা বলছেন, এটা শরীরের নিজের পেশি খেয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত। তবে এই অনশন আরও চললে, মাল্টি-অর্গান ফেলিওর হবে সোনমের।