
নয়া দিল্লি: সকালেই সোনম ওয়াংচুকে (Sonam Wangchuk) যন্তর-মন্তর থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। ২০ দিন ধরে অনশন করছেন ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk Health Update)। তাঁর শরীর অনেকটাই ভেঙে গিয়েছে। কমেছে ওজন। জানা গিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। হাসপাতালের মেডিক্যাল বুলেটিনে বলা হয়েছে, স্যালাইন নিতে চাইছেন না তিনি। এমনকী, ওষুধও খাওয়ানো যায়নি। প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাঁকে।
গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনে বসেছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। একটানা ২০ দিন অনশনের জেরে ৯ কেজি ওজন কমেছে তাঁর। চিকিৎসকরা মাল্টি অর্গান ফেলিওরের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। শনিবার দুপুরে হাসপাতালের প্রকাশিত মেডিক্যাল বুলেটিনে বলা হয়েছে, কোনওরকম চিকিৎসা নিতে চাইছেন না সোনম। চিকিৎসকদের পরামর্শ সত্ত্বেও কোনও রকম ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড, ওআরএস এবং অন্য কোনও ওষুধ গ্রহণেও রাজি করানো যায়নি। অনশন চালিয়ে গিয়ে কিডনি বিকল হওয়ারও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখা হচ্ছে। চিকিৎসা গ্রহণের জন্য তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ ৫৯ বছর বয়সি সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, টানা ২০ দিন অনশনে থাকার ফলে দুর্বল হয়ে পড়েছেন সোনম। ভর্তি হওয়ার সময় তিনি সচেতন ছিলেন। তাঁর নাড়ির গতি, রক্তচাপ এবং অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক ছিল। তবে, শরীরে জলের অভাব ছিল অর্থাৎ ডিহাইড্রেটেড হয়ে গিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, দিল্লি হাইকোর্ট দুই দিন আগে কেন্দ্রীয় সরকারকে ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। আদালত তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নিয়মিত নজর রাখারও নির্দেশ দেয়। ওয়াংচুকের চিকিৎসায় যুক্ত চিকিৎসকদের দাবি, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাঁর প্রায় ৯ কেজি ওজন কমে গিয়েছিল। দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।