
পটনা: ফের দেশের এক প্রিমিয়াম দূরপাল্লার ট্রেনে ছোড়া হল পাথর। এবার পাথর ছোড়া হল পটনা-শালিমার এসি দুরন্ত এক্সপ্রেসে। পাথরের আঘাতে আহত হয়েছেন একজন যাত্রী।
আরপিএফের কাছে পটনা-শালিমার এসি দুরন্ত এক্সপ্রেসে পাথর ছোড়ার অভিযোগ হয়েছে। আরপিএফ সূত্রে খবর, ২২২১৪ পটনা–শালিমার এসি দুরন্ত এক্সপ্রেসের বি৩ (B3) কোচে পাথর ছোড়ার ঘটনাটি ঘটেছে। গত বুধবার পটনা জংশন থেকে ট্রেন ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই কামরা লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। যার জেরে বি৩ কোচের ২৮ নম্বর সিটে বসে থাকা এক যাত্রী আহত হন বলে জানা গিয়েছে।
ট্রেনটির পরবর্তী স্টপেজ ছিল জসিডি। সেখানে পৌঁছানোর আগেই অন্যান্য যাত্রীরা একত্রিত হয়ে ওই আহত যাত্রীর চিকিৎসার জন্য চিৎকার শুরু করে দেন। জসিডিতে ওই যাত্রীর চিকিৎসা করার পর আবার ট্রেন ছাড়ে। অভিযোগ পাওয়ার পর আরপিএফ (RPF) আহত ওই যাত্রীর যোগাযোগ নম্বর চেয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানাতে অনুরোধ করে।
চলন্ত ট্রেনে এই ধরনের পাথর ছোড়া শুধু অপরাধ নয়, যাত্রীদের জীবনের জন্যও অত্যন্ত বিপজ্জনক। তবে বিগত কয়েক বছর ধরেই ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। রেলের তরফে অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপও করা হয়েছে।
রেলের আইন অনুযায়ী, পাথর ছোড়ার ক্ষেত্রে কড়া শাস্তির বিধান রয়েছে। রেলওয়ে আইনের ১৫২ ধারার অধীনে কোনও যাত্রীকে আহত করার উদ্দেশে বা যাত্রীদের জীবন বিপন্ন করার উদ্দেশে যদি কোনও ব্যক্তি পাথর ছোড়েন, তাহলে ১০ বছর পর্যন্ত বা যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা হতে পারে।
১৫৩ ধারায় যাত্রীদের সুরক্ষা বিপন্ন করা (যেখানে সরাসরি আঘাত করা হয়নি)-র অপরাধে ৫ বছর পর্যন্ত জেল, জরিমানা বা উভয় শাস্তিই হতে পারে।
রেলের ১৫০ ধারায় ট্রেন লাইনচ্যুত করার চেষ্টা করা হলে ১০ বছর পর্যন্ত কারাবাস বা যাবজ্জীবনের সাজা হতে পারে।
এছাড়া কোনও যাত্রীর আঘাত লাগলে বা মৃত্যু হলে, আলাদাভাবে ভারতীয় ন্যয় সংহিতার অধীনে খুনের চেষ্টার অভিযোগে সাজা দেওয়া হতে পারে।