
নয়া দিল্লি: দেশজুড়ে গত কয়েক সপ্তাহে লাফিয়ে বেড়েছে চিনির দাম। বাজারে চিনি কিনতে গেলে রীতিমতো নাভিঃশ্বাস উঠছে ক্রেতাদের। এই পরিস্থিতিতে বাজারে চিনির সরবরাহ বাড়াতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। আমদানি করা চিনি (যা বাজারের চিনি বা সাদা চিনির তুলনায় কম শোধিত) পরিশোধন করে দেশের বাজারে বিক্রির জন্য এবার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হল। সেক্ষেত্রে, স্বস্তির খবর হল ৩১ অক্টোবরের পরেও আরও সময় পাওয়া যাবে।
ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ অগস্ট কেন্দ্রের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে ট্যারিফ রেট কোটা বা TRQ-এর আওতায় ১০ লক্ষ টন পর্যন্ত শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এই সুবিধা চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর করা হয়েছিল। অর্থাৎ আমদানি করা চিনি পরিশোধনের পর ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই দেশের বাজারে বিক্রি করতে হত। এবার এই নিয়মেই পরিবর্তন এনেছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (DGFT)।
চিনি পরিশোধন করে বাজারে বিক্রির জন্য দুই মাসের সময়সীমা পাওয়া যাবে। তা হিসেব হবে বিল অব এন্ট্রির দিন থেকে। সেক্ষেত্রে, প্রত্যেক আমদানিকারকের ক্ষেত্রে আর ৩১ অক্টোবরের একই সময়সীমা থাকবে না। অর্থাৎ Bill of Entry-তে থাকা জমা দেওয়ার তারিখ থেকে দু’মাসের সময়সীমা পাওয়া যাবে। কারও যদি বিলে তারিখ থাকে ৩০ সেপ্টেম্বর, তাহলে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় পাবেন।
উৎসবের মরসুমের আগে চিনির দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জানা গিয়েছেস ২০ জুলাই দেশে চিনির দাম ছিল কেজি প্রতি ৪৮.১৮ টাকা। ২৪ অগস্ট তা বেড়ে হয়েছে কেজি প্রতি ৬৩.০৫ টাকা। অর্থাৎ, প্রায় এক মাসের ব্যবধানে কেজি প্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ১৫ টাকা। সরকারের মতে, প্রত্যাশার তুলনায় কম উৎপাদন, প্রতিকূল আবহাওয়ায় ফসলের ক্ষতি, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং কালোবাজারির মতো একাধিক কারণে চিনির দাম বেড়েছে। তবে ইথানল উৎপাদনে চিনি ব্যবহারের কারণেই মূলত দাম বেড়েছে, এই যুক্তি খারিজ করেছে কেন্দ্র।
শুধু আমদানির নিয়ম শিথিল করাই নয়, কালোবাজারি রুখতেও পদক্ষেপ করছে সরকার। ১ সেপ্টেম্বর থেকে বেশি পরিমাণে চিনি ব্যবহারকারী সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে মজুতের ঊর্ধ্বসীমা অর্ধেক করা হচ্ছে। এতদিন ৩০ দিনের ব্যবহারের চিনি মজুত রাখা গেলেও এবার তা কমিয়ে ১৫ দিন করা হচ্ছে।